অনেক পুরুষই মনে করেন, কি খেলে দ্রুত বীর্য পাত বন্ধ হয় বা এমন কোনো খাবার আছে কি, যা খেলে সহবাসের সময় বাড়ে। বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। কিছু খাবার শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে যৌনস্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়তা করতে পারে, তবে শুধু খাবার খেয়েই দ্রুত বীর্যপাত পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর পেছনে মানসিক চাপ, জীবনযাত্রা, হরমোনের পরিবর্তন, স্নায়বিক সমস্যা বা অন্য শারীরিক কারণও থাকতে পারে।
সুখবর হলো, বর্তমানে দ্রুত বীর্যপাতের সমাধান সম্ভব। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে অধিকাংশ মানুষই ভালো ফল পান।
দ্রুত বীর্যপাত কী?
দ্রুত বীর্যপাত হলো এমন একটি যৌন সমস্যা যেখানে একজন পুরুষ নিজের ইচ্ছার আগেই বীর্যপাত করে ফেলেন এবং বীর্যপাত নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। অনেকেই মনে করেন, যদি ১০–১৫ মিনিট সহবাস করতে না পারেন, তাহলে সেটিই দ্রুত বীর্যপাত। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি শুধুমাত্র সময়ের ওপর নির্ভর করে না। একজন ব্যক্তি যদি নিয়মিতভাবে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বীর্যপাত করেন এবং সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তাহলে সেটি দ্রুত বীর্যপাত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
দ্রুত বীর্যপাতের লক্ষণ
সব মানুষের ক্ষেত্রে লক্ষণ এক রকম হয় না। তবে নিচের লক্ষণগুলো থাকলে দ্রুত বীর্যপাতের সম্ভাবনা থাকতে পারে।
- সহবাস শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই বীর্যপাত হওয়াঃ এটি সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ। অনেকের ক্ষেত্রে যৌনমিলন শুরু হওয়ার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বীর্যপাত হয়ে যায়।
- বীর্যপাত নিয়ন্ত্রণ করতে না পারাঃ অনেক পুরুষ চেষ্টা করেও বীর্যপাত কিছুটা দেরি করতে পারেন না। এটি বারবার ঘটতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
- যৌন জীবনে অসন্তুষ্টিঃ দ্রুত বীর্যপাতের কারণে অনেক দম্পতির যৌনজীবনে অসন্তুষ্টি তৈরি হয়। এতে ধীরে ধীরে সম্পর্কেও প্রভাব পড়তে পারে।
- মানসিক চাপ ও আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়াঃ অনেকেই এই সমস্যার কারণে নিজেকে ব্যর্থ মনে করেন। ফলে উদ্বেগ, হতাশা ও আত্মবিশ্বাসের অভাব তৈরি হতে পারে।
- সহবাস এড়িয়ে চলার প্রবণতাঃ সমস্যাটি বারবার হওয়ার কারণে অনেক পুরুষ সহবাসে অনাগ্রহী হয়ে পড়েন অথবা ভয় পেতে শুরু করেন।
দ্রুত বীর্যপাতের ধরন
সব ধরনের দ্রুত বীর্যপাতের কারণ এক নয়। সাধারণত এটি চার ধরনের হতে পারে।
- প্রাইমারিঃ এটি আজীবন থাকা সমস্যা। অর্থাৎ যৌনজীবনের শুরু থেকেই ব্যক্তি দ্রুত বীর্যপাতের সমস্যায় ভুগছেন।
- সেকেন্ডারিঃ আগে স্বাভাবিক ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে কোনো শারীরিক বা মানসিক কারণে সমস্যা শুরু হয়েছে। এটি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
- সিচুয়েশনালঃ শুধু নির্দিষ্ট পরিস্থিতি বা নির্দিষ্ট সঙ্গীর সঙ্গে সমস্যা হয়। অন্য সময় সমস্যা নাও হতে পারে।
- জেনারালাইজডঃ প্রায় সব পরিস্থিতিতেই দ্রুত বীর্যপাত হয়।
কি খেলে দ্রুত বীর্য পাত বন্ধ হয়?
এটি ইন্টারনেটে সবচেয়ে বেশি সার্চ করা প্রশ্নগুলোর একটি। অনেকেই জানতে চান, কি খেলে দ্রুত বীর্য পাত বন্ধ হয় অথবা কি খেলে বীর্য দেরিতে বের হবে।
অকাল বীর্যপাত রোধ করতে কোনো জাদুকরী খাবার নেই, তবে সুষম খাদ্য ও পুষ্টি এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার (যেমন: ডিম, কলা, ডার্ক চকলেট, আদা, রসুন, পালং শাক ও বাদাম) শরীরে রক্ত চলাচল ও স্ট্যামিনা বাড়ায়।
জিংক সমৃদ্ধ খাবার
জিংক পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ। এটি টেস্টোস্টেরনের স্বাভাবিক উৎপাদন এবং শুক্রাণুর স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখে।
জিংক পাওয়া যায়ঃ
- কুমড়ার বীজ
- গরুর মাংস
- ডিম
- মুরগির মাংস
- ডাল
- ছোলা
নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে এসব খাবার খাওয়া উপকারী হতে পারে।
ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার
ম্যাগনেসিয়াম পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি শরীরকে শিথিল রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়ঃ
- পালং শাক
- কাজুবাদাম
- কাঠবাদাম
- কলা
- ওটস
- বিভিন্ন বীজজাতীয় খাবারে
ওমেগা ৩ সমৃদ্ধ খাবার
ওমেগা–৩ হৃদ্স্বাস্থ্য ও রক্ত সঞ্চালনের জন্য উপকারী। ভালো রক্ত সঞ্চালন যৌনস্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
ভালো উৎসঃ
- ইলিশ
- সামুদ্রিক মাছ
- সার্ডিন
- সালমন
- তিসির বীজ
- আখরোট
প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার
প্রোটিন শরীরের টিস্যু গঠন, হরমোন উৎপাদন এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
প্রোটিনের ভালো উৎসঃ
- ডিম
- মাছ
- মুরগির মাংস
- দুধ
- দই
- ডাল
- ছোলা
ভিটামিন বি-১২ সমৃদ্ধ খাবার
ভিটামিন বি-১২ স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে।
এটি পাওয়া যায়ঃ
- মাছ
- ডিম
- দুধ
- দই
- গরুর মাংস
ভিটামিন ডি
গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি যৌনস্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে এটি যে সরাসরি দ্রুত বীর্যপাতের কারণ, এমন শক্ত প্রমাণ এখনো নেই।
ভিটামিন ডি পাওয়া যায়ঃ
- সকালের রোদ
- ডিমের কুসুম
- সামুদ্রিক মাছ
- ফোর্টিফায়েড দুধ
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে সুরক্ষা দেয় এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখে।
উপকারী ফলঃ
- ডালিম
- ব্লুবেরি
- স্ট্রবেরি
- কমলা
- আঙুর
কলা
অনেকেই জানতে চান, কলা কি দীর্ঘ সময় সহবাস করার প্রাকৃতিক ঔষধ?
বাস্তবে কলা কোনো ওষুধ নয়। তবে এতে পটাশিয়াম, ভিটামিন বি-৬ এবং বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাই এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।
বাদাম
নিয়মিত পরিমিত পরিমাণেঃ
- কাঠবাদাম
- আখরোট
- পেস্তা
- কাজুবাদাম
খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী।
পর্যাপ্ত পানি পান
অনেকেই খাবারের দিকে নজর দেন, কিন্তু পর্যাপ্ত পানি পান করেন না। পানিশূন্যতা শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
শুধুমাত্র খাবার কি যথেষ্ট?
না। যদি আপনি ভাবেন, কি খেলে বীর্য দেরিতে বের হবে, তাহলে উত্তর হলোঃ শুধু খাবার নয়, বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ, সবকিছু একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দ্রুত বীর্য পাতের প্রাকৃতিক চিকিৎসা হিসেবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ব্যায়াম ভালো ফল দিতে পারে। তবে দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর সিদ্ধান্ত।

কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত?
অনেকেই জানতে চান কি খেলে দ্রুত বীর্য পাত বন্ধ হয়, কিন্তু এর পাশাপাশি এটাও জানা জরুরি যে কিছু অভ্যাস ও খাবার যৌনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এগুলো সরাসরি দ্রুত বীর্যপাতের একমাত্র কারণ নয়, তবুও দীর্ঘদিন অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্য, হরমোনের ভারসাম্য এবং রক্ত সঞ্চালনে প্রভাব ফেলতে পারে।
অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড
বার্গার, পিজ্জা, ফ্রাইড চিকেন, চিপসসহ অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার নিয়মিত খেলে ওজন বেড়ে যেতে পারে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হলে যৌনস্বাস্থ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অতিরিক্ত চিনি
অতিরিক্ত মিষ্টি, কোমল পানীয়, কেক, পেস্ট্রি এবং প্রক্রিয়াজাত চিনিযুক্ত খাবার নিয়মিত খাওয়া ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়। ডায়াবেটিস দীর্ঘমেয়াদে যৌন সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।
ধূমপান
ধূমপান রক্তনালীর ক্ষতি করে এবং শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয়। দীর্ঘদিন ধূমপান করলে যৌনক্ষমতা ও প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অতিরিক্ত অ্যালকোহল
অ্যালকোহল সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমাতে পারে বলে অনেকেই মনে করেন এটি সহবাসের সময় বাড়ায়। বাস্তবে অতিরিক্ত অ্যালকোহল যৌনক্ষমতা কমাতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন যৌন সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
অতিরিক্ত ক্যাফেইন
চা বা কফি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন কিছু মানুষের উদ্বেগ, অস্থিরতা ও ঘুমের সমস্যা বাড়াতে পারে, যা পরোক্ষভাবে যৌনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।
দ্রুত বীর্যপাতের কারণ
দ্রুত বীর্যপাত একটি জটিল সমস্যা। একেকজনের ক্ষেত্রে একেকটি কারণ কাজ করতে পারে। অনেক সময় একাধিক কারণ একসঙ্গে দায়ী থাকে।
১. মানসিক কারণ
বর্তমানে দ্রুত বীর্যপাতের অন্যতম সাধারণ কারণ হলো মানসিক চাপ।
- পারফরম্যান্স অ্যাংজাইটিঃ অনেক পুরুষ সহবাসের আগে চিন্তা করেন—”আমি কি ভালোভাবে পারব?”, “যদি খুব তাড়াতাড়ি বীর্যপাত হয়ে যায়?” এই ধরনের উদ্বেগই অনেক সময় সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
- অতিরিক্ত মানসিক চাপঃ অফিসের চাপ, পারিবারিক সমস্যা, আর্থিক দুশ্চিন্তা বা অন্যান্য স্ট্রেস যৌনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
- বিষণ্নতাঃ দীর্ঘদিনের বিষণ্নতা যৌন আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে এবং বীর্যপাতের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণেও প্রভাব ফেলতে পারে।
- সম্পর্কের সমস্যাঃ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মানসিক দূরত্ব, ঝগড়া বা যোগাযোগের অভাব যৌনসম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
২. শারীরিক কারণ
কিছু শারীরিক সমস্যাও দ্রুত বীর্যপাতের জন্য দায়ী হতে পারে।
- প্রোস্টেটের প্রদাহঃ প্রোস্টেট গ্রন্থিতে প্রদাহ বা সংক্রমণ থাকলে কিছু মানুষের যৌন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- থাইরয়েডের সমস্যাঃ বিশেষ করে হাইপারথাইরয়েডিজমের সঙ্গে দ্রুত বীর্যপাতের সম্পর্ক নিয়ে কিছু গবেষণায় তথ্য পাওয়া গেছে।
- স্নায়বিক সমস্যাঃ যেসব রোগে স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়, সেগুলোর কারণেও যৌন সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
- ডায়াবেটিসঃ দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস স্নায়ু ও রক্তনালীর ক্ষতি করতে পারে, যা যৌনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
৩. জৈবিক ও রাসায়নিক কারণ
শরীরের কিছু রাসায়নিক পরিবর্তনও দ্রুত বীর্যপাতের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
- সেরোটোনিনের ভারসাম্যঃ মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নামক রাসায়নিকের মাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত বীর্যপাতের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।
- হরমোনের পরিবর্তনঃ কিছু ক্ষেত্রে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা যৌন সমস্যার কারণ হতে পারে।
- জেনেটিক কারণঃ কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বংশগত কারণও ভূমিকা রাখতে পারে, যদিও এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
৪. জীবনযাত্রাজনিত কারণ
বর্তমান জীবনধারাও অনেক ক্ষেত্রে সমস্যাটি বাড়িয়ে দেয়।
- পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া
- ব্যায়াম না করা
- অতিরিক্ত ওজন
- ধূমপান
- অতিরিক্ত মদ্যপান
- দীর্ঘদিন মানসিক চাপ

দ্রুত বীর্যপাত কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
অনেকেই মনে করেন দ্রুত বীর্যপাত নির্ণয়ের জন্য অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়। বাস্তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চিকিৎসক রোগীর ইতিহাস ও উপসর্গ শুনেই প্রাথমিক ধারণা পেয়ে যান।
রোগের ইতিহাস নেওয়া
চিকিৎসক সাধারণত জানতে চানঃ
- কতদিন ধরে সমস্যা হচ্ছে?
- প্রতিবারই কি এমন হয়?
- আগে কি সমস্যা ছিল?
- কোনো ওষুধ খাচ্ছেন কি?
- অন্য কোনো রোগ আছে কি?
এই তথ্যগুলো রোগ নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শারীরিক পরীক্ষা
প্রয়োজনে চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা করতে পারেন, যাতে অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা আছে কি না তা বোঝা যায়।
ল্যাবরেটরি পরীক্ষা
সব রোগীর ক্ষেত্রে পরীক্ষা লাগে না। তবে প্রয়োজন হলে চিকিৎসক নিচের পরীক্ষাগুলো দিতে পারেন—
- রক্তে শর্করা (ডায়াবেটিস আছে কি না)
- থাইরয়েড পরীক্ষা
- হরমোন পরীক্ষা
- অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা
দ্রুত বীর্যপাতের চিকিৎসা
অনেকেই ইন্টারনেটে দ্রুত বীর্যপাতের সমাধান বা দ্রুত বীর্যপাত থেকে মুক্তির উপায় খুঁজে থাকেন। ভালো খবর হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার কারণ, বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং মানসিক অবস্থার ওপর।
১. আচরণগত থেরাপি
এটি অনেক রোগীর ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে।
- Start–Stop Technique: এই পদ্ধতিতে বীর্যপাতের অনুভূতি শুরু হলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা কমানো হয়। এরপর আবার সহবাস শুরু করা হয়। নিয়মিত অনুশীলনে কিছু মানুষের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাড়তে পারে।
- Squeeze Technique: বীর্যপাতের ঠিক আগে লিঙ্গের নির্দিষ্ট অংশে হালকা চাপ দেওয়ার মাধ্যমে উত্তেজনা কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হয়। এটি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শেখা উচিত।
২. পেলভিক ফ্লোর (Kegel) ব্যায়াম
পেলভিক ফ্লোরের পেশি শক্তিশালী হলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বীর্যপাত নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
কেগেল ব্যায়াম করার আগে কোন পেশি ব্যবহার করতে হবে তা একজন ফিজিওথেরাপিস্ট বা চিকিৎসকের কাছ থেকে শিখে নেওয়া ভালো।
৩. কাউন্সেলিং
যদি সমস্যার মূল কারণ উদ্বেগ, দাম্পত্য সমস্যা বা মানসিক চাপ হয়, তাহলে কাউন্সেলিং অনেক উপকারী হতে পারে।
অনেক সময় শুধু সঠিক পরামর্শ ও মানসিক সমর্থনই রোগীর আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে।
৪. ওষুধ
কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসক ওষুধ দিতে পারেন।
যেমনঃ
- নির্দিষ্ট ধরনের SSRI ওষুধ
- স্থানীয়ভাবে ব্যবহৃত অসাড়কারী (Topical) ক্রিম বা স্প্রে
গুরুত্বপূর্ণ: এসব ওষুধ অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত। নিজে থেকে ওষুধ খাওয়া বা অনলাইনে পাওয়া অজানা ওষুধ ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
৫. কনডম ব্যবহার
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কনডম ব্যবহার করলে লিঙ্গের সংবেদন কিছুটা কমে, ফলে বীর্যপাত কিছুটা দেরিতে হতে পারে। তবে এটি সবার ক্ষেত্রে একইভাবে কাজ করে না।
৬. জীবনযাত্রার পরিবর্তন
অনেক সময় ওষুধের পাশাপাশি নিচের পরিবর্তনগুলো ভালো ফল দিতে পারেঃ
- প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমানো
- নিয়মিত ব্যায়াম
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
- ধূমপান ছেড়ে দেওয়া
- মানসিক চাপ কমানো
- স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা
এসব পরিবর্তন দ্রুত বীর্য পাতের প্রাকৃতিক চিকিৎসা হিসেবে সহায়ক হতে পারে, বিশেষ করে যখন সমস্যার সঙ্গে জীবনযাত্রার সম্পর্ক থাকে।
৭. স্ব-সহায়ক কৌশল
অনেকেই সহবাসের সময় বাড়ানোর উপায় জানতে চান। কিছু স্ব-সহায়ক কৌশল সহায়ক হতে পারে, যেমনঃ
- সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা।
- পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ফোরপ্লে করা।
- মানসিক চাপ কমানোর জন্য নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা মেডিটেশন করা।
- অযাচাইকৃত “ম্যাজিক” ওষুধ বা হারবাল পণ্যের ওপর নির্ভর না করা।
মনে রাখবেন, এগুলো সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে কাজ নাও করতে পারে। দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে অবশ্যই একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

