প্রায় প্রতিটি নারীর জীবনেই মাসিক বা পিরিয়ড একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। তবে অনেকের জন্য এই সময়টি তীব্র তলপেট ব্যথা, কোমর ব্যথা, বমিভাব, ক্লান্তি এবং অস্বস্তির কারণে বেশ কষ্টকর হয়ে ওঠে। কারও ক্ষেত্রে ব্যথা এতটাই বেশি হয় যে স্বাভাবিক কাজকর্মও ব্যাহত হয়।
সৌভাগ্যবশত, পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর উপায় রয়েছে, যা ঘরেই সহজে অনুসরণ করা যায়। তলপেটে গরম পানির সেঁক, হালকা ব্যায়াম, আদা চা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করলে অনেক ক্ষেত্রেই দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।
মাসিকের ব্যথা উপশমে কিছু কার্যকর ও পরীক্ষিত উপায় চলুন তুলে ধরা যাকঃ
তাপ থেরাপি বা গরম ছ্যাকা
পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর এবং নিরাপদ উপায়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তাপ থেরাপি। গরমের কারণে জরায়ুর পেশী শিথিল হয় এবং রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়। ফলে ব্যথা অনেকটাই কমে যায়।

গরম পানির ব্যাগ
তলপেট বা কোমরে ১৫-২০ মিনিটের জন্য গরম পানির ব্যাগ বা হিটিং প্যাড ব্যবহার করুন। এটি অনেক সময় ব্যথানাশক ওষুধের মতোই কার্যকর হতে পারে।
তবে খেয়াল রাখবেন, অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করবেন না। এতে ত্বক পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। প্রয়োজনে একটি পাতলা তোয়ালে দিয়ে গরম পানির ব্যাগ মুড়ে ব্যবহার করুন।
কুসুম গরম পানিতে গোসল
কুসুম গরম পানিতে গোসল করলে শরীরের পেশীগুলো শিথিল হয় এবং মানসিক চাপও কমে। অনেক নারীই জানান, মাসিকের সময় গরম পানিতে গোসল করার পর তাদের ব্যথা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
যদি সম্ভব হয়, দিনে একবার কুসুম গরম পানিতে গোসল করুন। এটি শরীরকে আরাম দেওয়ার পাশাপাশি ক্লান্তিও দূর করে।
খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি
পিরিয়ডের সময় সঠিক খাবার নির্বাচন ব্যথা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিছু খাবারে এমন উপাদান থাকে যা প্রদাহ কমায় এবং পেশীকে শিথিল করতে সাহায্য করে।
আদা চা
আদা প্রাকৃতিকভাবে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। তাই মাসিকের সময় আদা চা পান করলে ব্যথা কিছুটা কমতে পারে।
এক কাপ গরম পানিতে কয়েক টুকরো আদা দিয়ে ৫-১০ মিনিট ফুটিয়ে নিন। চাইলে সামান্য মধু যোগ করতে পারেন। দিনে ২-৩ কাপ আদা চা পান করলে আরাম পাওয়া যেতে পারে।
ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার
ম্যাগনেসিয়াম পেশী শিথিল করতে সাহায্য করে এবং জরায়ুর অতিরিক্ত সংকোচন কমাতে পারে।
ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ কিছু খাবার হলো—
- কলা
- পালং শাক
- বাদাম
- কাজুবাদাম
- কুমড়ার বীজ
- ডার্ক চকলেট (পরিমিত পরিমাণে)
এই খাবারগুলো নিয়মিত খেলে ভবিষ্যতের পিরিয়ডেও ব্যথা তুলনামূলক কম হতে পারে।
পুষ্টিকর পানীয়
মাসিকের সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও তাজা ফলের জুস, ডাবের পানি এবং লেবুর শরবত শরীরকে হাইড্রেট রাখে।
অতিরিক্ত ক্যাফেইন, কোমল পানীয় এবং অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার কম খাওয়াই ভালো। এগুলো অনেক সময় পেট ফাঁপা এবং অস্বস্তি বাড়িয়ে দেয়।

শরীরচর্চা ও যোগব্যায়াম
অনেকে মনে করেন মাসিকের সময় সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকাই ভালো। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, হালকা ব্যায়াম করলে শরীর থেকে এন্ডোরফিন নামক প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
হালকা স্ট্রেচিং
প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট হালকা স্ট্রেচিং করলে তলপেট এবং কোমরের পেশী শিথিল হয়।
আপনি ধীরে ধীরে হাঁটতে পারেন, কোমর ঘোরানোর ব্যায়াম করতে পারেন অথবা পা ও কোমরের হালকা স্ট্রেচ করতে পারেন।
যোগাসন
কিছু সহজ যোগাসন মাসিকের ব্যথা কমাতে কার্যকর বলে বিবেচিত হয়। যেমন—
- Child’s Pose
- Cat-Cow Pose
- Cobra Pose
- Supine Twist
তবে যদি ব্যথা খুব বেশি হয়, তাহলে জোর করে ব্যায়াম না করে বিশ্রাম নিন।
ওষুধ
অনেক সময় ঘরোয়া উপায়ে ব্যথা না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হতে পারে।
পেইনকিলার
অনেকে পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর উপায় ঔষধের নাম জানতে চান।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাধারণত নিচের ব্যথানাশক ওষুধগুলো ব্যবহার করা হয়—
- ইবুপ্রোফেন (Ibuprofen)
- ন্যাপ্রোক্সেন (Naproxen)
- মেফেনামিক অ্যাসিড (Mefenamic Acid)
এসব ওষুধ জরায়ুর অতিরিক্ত সংকোচন কমিয়ে ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে।
তবে মনে রাখবেন—
- নিজের ইচ্ছামতো নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধ খাবেন না।
- যাদের আলসার, কিডনি সমস্যা, লিভারের রোগ বা গর্ভাবস্থার সম্ভাবনা রয়েছে, তারা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ গ্রহণ করবেন।
- ব্যথা যদি প্রতি মাসেই অসহনীয় হয়, তাহলে শুধু ওষুধ খেয়ে না থেকে কারণ নির্ণয় করা জরুরি।
পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর ইসলামিক উপায়
অনেকেই পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর ইসলামিক উপায় সম্পর্কে জানতে চান। ইসলামে মাসিক একটি স্বাভাবিক শারীরিক অবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
ব্যথা কমানোর জন্য ইসলামে নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি উল্লেখ নেই। তবে অসুস্থতা বা কষ্টের সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করা, ধৈর্য ধারণ করা এবং বৈধ চিকিৎসা গ্রহণ করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
আপনি এই সময়ে—
- আল্লাহর কাছে সুস্থতার জন্য দোয়া করতে পারেন।
- জিকির করতে পারেন।
- মানসিকভাবে শান্ত থাকার চেষ্টা করতে পারেন।
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন।
ইসলাম কখনোই চিকিৎসা গ্রহণে নিরুৎসাহিত করে না। তাই প্রয়োজন হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
সব ধরনের মাসিকের ব্যথা স্বাভাবিক নয়। নিচের যেকোনো লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—
- প্রতি মাসেই অসহনীয় ব্যথা হওয়া
- ব্যথার কারণে স্কুল, কলেজ বা অফিসে যেতে না পারা
- অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়া
- মাসিকের মাঝামাঝি সময়েও তীব্র ব্যথা থাকা
- সহবাসের সময় ব্যথা অনুভব করা
- দীর্ঘদিন ধরে সন্তান না হওয়ার পাশাপাশি তীব্র মাসিক ব্যথা থাকা
এসব ক্ষেত্রে এন্ডোমেট্রিওসিস, অ্যাডেনোমায়োসিস, ফাইব্রয়েড বা অন্যান্য স্ত্রীরোগের সমস্যা থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
আপনার যদি দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মাসিকের ব্যথা থাকে, অথবা ব্যথার পাশাপাশি সন্তান ধারণে সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে আজই যোগাযোগ করুন হারভেস্ট ইনফার্টিলিটি কেয়ার-এ, যেখানে আপনি পরামর্শ নিতে পারবেন বাংলাদেশের প্রথম এবং ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ডাঃ মুশতাক আহমেদ-এর কাছ থেকে।
যোগাযোগ:
মোবাইল:
০১৮১৭-১৪৬৬৪০
০১৭০৬৩২০০৩৯
প্রধান কার্যালয়:
মান্নান হাইটস, সেকশন-১২, ব্লক-বি, রোড-৬, হাউস-১০০, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা-১২২১।
মিরপুর-১০ চেম্বার:
চতুর্থ তলা, বাসা-০১, রোড-০৭, ব্লক-এ, সেকশন-১০, মিরপুর-১০, ঢাকা-১২১৬।
সিলেট চেম্বার:
থাইরোকেয়ার লেভেল-৩, আল মাদানী টাওয়ার, আজাদি ৬১-৬২, নয়া সড়ক, মিরবক্স টুলা, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালের বিপরীতে।
দিনাজপুর চেম্বার:
ইউনিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিকেল মোড় (হাসপাতাল ২ নম্বর গেটের সামনে), দিনাজপুর সদর-৫২০০।