সহবাস: নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন এমন দম্পতিদের জন্য সহবাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন শুধুমাত্র নিয়মিত সহবাস করলেই সহজে গর্ভধারণ সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে গর্ভধারণ নির্ভর করে সঠিক সময়ে সহবাস, নারী-পুরুষ উভয়ের প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য শারীরিক বিষয়ের উপর।

আবার অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, সহবাসের পর কতক্ষণ শুয়ে থাকতে হয়, প্রতিদিন সহবাস করলে কি বাচ্চা হয়, অথবা সহবাসের সময় থুথু ব্যবহার করা নিরাপদ কিনা। এসব বিষয় নিয়ে ইন্টারনেটে অনেক ভুল তথ্য ছড়িয়ে আছে, যা অপ্রয়োজনীয় দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে।

এই আর্টিকেলে আমরা সহজ ভাষায় সহবাস সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর উত্তর জানবো, যাতে আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

সহবাস কেন জরুরি?

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের একটি স্বাভাবিক ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সহবাস। এটি শুধু সন্তান ধারণের জন্যই নয়, বরং একটি সুস্থ দাম্পত্য জীবন, মানসিক প্রশান্তি এবং শারীরিক সুস্থতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গর্ভধারণের ক্ষেত্রে সহবাসের মাধ্যমে পুরুষের শুক্রাণু নারীর প্রজননতন্ত্রে প্রবেশ করে এবং ডিম্বস্ফোটনের সময় ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হলে নিষেক ঘটে। তাই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে সঠিক সময়ে সহবাস করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে সহবাসের গুরুত্ব শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত ও পারস্পরিক সম্মতিতে সহবাসের ফলেঃ

  • স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক ভালোবাসা, বিশ্বাস ও মানসিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
  • সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা ও আবেগের প্রকাশ বাড়ে, যা একটি সুখী দাম্পত্য জীবন গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
  • শরীরে অক্সিটোসিন ও এন্ডোরফিন-এর মতো “ফিল-গুড” হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ (স্ট্রেস) কমাতে এবং মন ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।
  • অনেকের ক্ষেত্রে সহবাসের পর ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে এবং শরীর আরও আরাম অনুভব করে।
  • নিয়মিত সহবাস দাম্পত্য জীবনে সন্তুষ্টি বৃদ্ধি করতে পারে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ইতিবাচক।
  • এটি হালকা শারীরিক কার্যকলাপ হিসেবেও কাজ করে, যা শরীরকে সক্রিয় রাখতে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে, সহবাস সবসময় উভয়ের ইচ্ছা, সম্মতি ও স্বাচ্ছন্দ্যের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। কোনো ধরনের চাপ বা জোরপূর্বক সহবাস শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক থেকেই ক্ষতিকর হতে পারে।

গর্ভধারণের জন্য সহবাসের সঠিক সময়

গর্ভধারণের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মাসে মাত্র কয়েকদিন নারী সবচেয়ে বেশি উর্বর (Fertile) থাকেন।

ডিম্বস্ফোটনের সময়

ডিম্বস্ফোটন হলো সেই সময় যখন ডিম্বাশয় থেকে একটি পরিপক্ব ডিম্বাণু বের হয়। সাধারণত এই সময়েই গর্ভধারণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।

ডিম্বাণু প্রায় ১২–২৪ ঘণ্টা জীবিত থাকে, কিন্তু শুক্রাণু নারীর শরীরে ৩–৫ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। তাই ডিম্বস্ফোটনের ২–৩ দিন আগে থেকে এবং ডিম্বস্ফোটনের দিন সহবাস করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

মাসিক নিয়মিত হলে মাঝামাঝি সময়ে

যদি কারও মাসিক চক্র ২৮ দিনের হয়, তাহলে সাধারণত ১৪তম দিনের আশেপাশে ডিম্বস্ফোটন ঘটে।

এক্ষেত্রে মাসিক শুরুর ১১ থেকে ১৬তম দিনের মধ্যে একদিন পরপর সহবাস করা সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে।

তবে সবার মাসিক চক্র এক রকম নয়। কারও ২৬ দিন, কারও ৩০ বা ৩২ দিনও হতে পারে। তাই নিজের মাসিক চক্র অনুযায়ী উর্বর সময় নির্ধারণ করা উচিত।

সহবাসের পর কতক্ষণ শুয়ে থাকতে হয়?

অনেকেই জানতে চান, সহবাসের পর কতক্ষণ শুয়ে থাকতে হয় অথবা সহবাস করার পর কতক্ষণ শুয়ে থাকতে হয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, সহবাসের পর অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট চিৎ হয়ে শুয়ে থাকলে অনেকেই মানসিকভাবে স্বস্তি পান। যদিও গবেষণায় এটি গর্ভধারণের জন্য বাধ্যতামূলক বলে প্রমাণিত হয়নি।

আসলে বীর্যপাতের পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই লক্ষ লক্ষ শুক্রাণু জরায়ুর দিকে যাত্রা শুরু করে। তাই সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ালে গর্ভধারণের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায়—এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

তবে নিচের বিষয়গুলো মেনে চলতে পারেনঃ

  • ১০–১৫ মিনিট আরাম করে শুয়ে থাকুন।
  • অপ্রয়োজনীয় দুশ্চিন্তা করবেন না।
  • সঙ্গে সঙ্গে যোনি ধোয়ার প্রয়োজন নেই।
  • স্বাভাবিকভাবে কিছু বীর্য বাইরে বেরিয়ে আসা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক সময়ে সহবাস করা, শুধু শুয়ে থাকার সময় নয়।

প্রতিদিন সহবাস করলে কি বাচ্চা হয়?

এটি খুবই সাধারণ একটি প্রশ্ন।

উত্তর হলোঃ প্রতিদিন সহবাস করলেই যে গর্ভধারণ নিশ্চিত হবে, এমন নয়।

যদি নারী উর্বর সময়ে থাকেন, তাহলে প্রতিদিন অথবা একদিন পরপর সহবাস—দুটিই কার্যকর হতে পারে।

অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ডিম্বস্ফোটনের সময়ে একদিন পরপর সহবাস করলে শুক্রাণুর মান এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনার মধ্যে ভালো ভারসাম্য থাকে।

অন্যদিকে, যেসব দম্পতির শুক্রাণুর মান স্বাভাবিক, তাদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন সহবাস করলেও সাধারণত কোনো সমস্যা হয় না।

তাই অযথা চাপ নিয়ে প্রতিদিন সহবাস করার পরিবর্তে উর্বর সময়ে নিয়মিত সহবাস করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সহবাসের সময় থুথু ব্যবহার কি নিরাপদ?

অনেকেই সহবাসের সময় থুথু ব্যবহার করেন লুব্রিকেন্ট হিসেবে। কিন্তু এটি আদর্শ বা নিরাপদ পদ্ধতি নয়।

কারণঃ

  • থুথুতে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে।
  • মুখের সংক্রমণ যৌনাঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  • থুথু দ্রুত শুকিয়ে যায়, ফলে ঘর্ষণ বেড়ে অস্বস্তি ও ক্ষুদ্র ক্ষত তৈরি হতে পারে।
  • কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, থুথু শুক্রাণুর চলাচলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

যদি সহবাসের সময় শুষ্কতা অনুভূত হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী Water-based lubricant ব্যবহার করা ভালো। এটি নিরাপদ এবং শুক্রাণুবান্ধব (Sperm-friendly) পণ্য হলে গর্ভধারণের পরিকল্পনাকারী দম্পতিদের জন্য আরও উপযোগী হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?

নিচের যেকোনো পরিস্থিতি থাকলে দেরি না করে বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

১ বছর চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হলে

যদি এক বছরের বেশি সময় নিয়মিত অসুরক্ষিত সহবাস করার পরও গর্ভধারণ না হয়, তাহলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা জরুরি।

তবে নারীর বয়স যদি ৩৫ বছরের বেশি হয়, তাহলে ৬ মাস চেষ্টা করার পরই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মাসিক অনিয়মিত হলে

অনিয়মিত মাসিক অনেক সময় ডিম্বস্ফোটনের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

যদি মাসিক খুব বেশি অনিয়মিত হয়, কয়েক মাস পরপর হয় অথবা একেবারেই না হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তীব্র ব্যথা থাকলে

মাসিকের সময় বা সহবাসের সময় তীব্র ব্যথা হলে সেটি এন্ডোমেট্রিওসিস, সংক্রমণ বা অন্য কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে।

এ ধরনের ব্যথাকে স্বাভাবিক ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়।

আগে বন্ধ্যাত্বের ইতিহাস থাকলে

যদি আগে গর্ভধারণে সমস্যা হয়ে থাকে, বারবার গর্ভপাত হয়ে থাকে অথবা নারী বা পুরুষের কোনো প্রজননজনিত রোগের ইতিহাস থাকে, তাহলে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করার আগেই বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।

বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

আপনি যদি দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও গর্ভধারণে সফল না হন, অথবা সহবাস, ডিম্বস্ফোটন কিংবা বন্ধ্যাত্ব নিয়ে কোনো ধরনের দুশ্চিন্তায় থাকেন, তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে আজই যোগাযোগ করুন হারভেস্ট ইনফার্টিলিটি কেয়ার-এ, যেখানে আপনি পরামর্শ নিতে পারবেন বাংলাদেশের প্রথম এবং ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ডাঃ মুশতাক আহমেদ-এর কাছ থেকে।

যোগাযোগ

মোবাইল:
০১৮১৭-১৪৬৬৪০
০১৭০৬৩২০০৩৯

প্রধান কার্যালয়

মান্নান হাইটস, সেকশন-১২, ব্লক-বি, রোড-৬, হাউস-১০০, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা-১২২১।

মিরপুর-১০ চেম্বার

চতুর্থ তলা, বাসা-০১, রোড-০৭, ব্লক-এ, সেকশন-১০, মিরপুর-১০, ঢাকা-১২১৬।

সিলেট চেম্বার

থাইরোকেয়ার লেভেল-৩, আল মাদানী টাওয়ার, আজাদি ৬১-৬২, নয়া সড়ক, মিরবক্স টুলা, সিলেট। সিলেট উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালের বিপরীতে।

দিনাজপুর চেম্বার

ইউনিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিকেল মোড় (হাসপাতাল ২ নম্বর গেটের সামনে), দিনাজপুর সদর-৫২০০।

সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিলে অনেক দম্পতিরই সন্তান নেওয়ার স্বপ্ন পূরণ সম্ভব। তাই অযথা দেরি না করে প্রয়োজন হলে একজন অভিজ্ঞ বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

Scroll to Top