গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের শরীরে রক্তের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। একই সঙ্গে গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি, প্লাসেন্টা তৈরি এবং মায়ের শরীরের অতিরিক্ত চাহিদা পূরণের জন্য আয়রনের প্রয়োজনও বেড়ে যায়। তাই চিকিৎসকরা অধিকাংশ গর্ভবতী মাকে নিয়মিত আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার পরামর্শ দেন।
তবে শুধু আয়রন ট্যাবলেট খেলেই হবে না, এটি সঠিক নিয়মে খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভুল সময়ে বা ভুল খাবারের সঙ্গে আয়রন ট্যাবলেট খেলে শরীর সেটি ঠিকমতো শোষণ করতে পারে না। ফলে কাঙ্ক্ষিত উপকার পাওয়া যায় না।
খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও সময়
খালি পেটে আয়রন ট্যাবলেট খাওয়া
সাধারণভাবে আয়রন ট্যাবলেট খালি পেটে খেলে শরীর সবচেয়ে ভালোভাবে আয়রন শোষণ করতে পারে।
চিকিৎসকরা সাধারণত পরামর্শ দেন:
- খাবার খাওয়ার ১ ঘণ্টা আগে অথবা
- খাবারের ২ ঘণ্টা পরে
এক গ্লাস পানি দিয়ে আয়রন ট্যাবলেট খেতে। এটাই আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম হিসেবে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।
তবে অনেকের ক্ষেত্রে খালি পেটে খেলে:
- বমি বমি ভাব,
- পেটে অস্বস্তি,
- হালকা ব্যথা,
হতে পারে।
এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা খাবারের পরে আয়রন ট্যাবলেট খাওয়া যেতে পারে। তবে নিজের সিদ্ধান্তে সময় পরিবর্তন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
ক্যালসিয়াম থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন

অনেক গর্ভবতী মা একই সময়ে আয়রন ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খেয়ে ফেলেন। এটি একটি সাধারণ ভুল। ক্যালসিয়াম আয়রনের শোষণ কমিয়ে দিতে পারে। ফলে শরীর পর্যাপ্ত আয়রন গ্রহণ করতে পারে না।
তাই:
- আয়রন ট্যাবলেট ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেটের মধ্যে অন্তত ২ ঘণ্টার ব্যবধান রাখুন।
- অ্যান্টাসিড (গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ) খেলে সেটির সঙ্গেও একই সময়ে আয়রন খাবেন না।
এই নিয়ম মেনে চললে আয়রনের কার্যকারিতা অনেক বেড়ে যায়।
চা-কফি বর্জন

অনেকেই সকালে নাশতার সঙ্গে চা বা কফি পান করেন এবং একই সময়ে আয়রন ট্যাবলেট খেয়ে নেন। এটি করা উচিত নয়। চা ও কফিতে থাকা কিছু উপাদান (বিশেষ করে ট্যানিন) শরীরে আয়রন শোষণে বাধা সৃষ্টি করে।
তাই:
- আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার অন্তত ১–২ ঘণ্টা আগে বা পরে চা বা কফি পান করুন।
- একই সময়ে দুধও না খাওয়াই ভালো, কারণ এতে থাকা ক্যালসিয়ামও আয়রন শোষণ কমাতে পারে।
এক গ্লাস পানি দিয়ে ট্যাবলেট খান

আয়রন ট্যাবলেট সব সময় এক গ্লাস পরিষ্কার পানি দিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করুন। ট্যাবলেট খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়বেন না। কয়েক মিনিট সোজা হয়ে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকুন। এতে গলায় বা খাদ্যনালিতে অস্বস্তি হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
এ পর্যন্ত আমরা গর্ভাবস্থায় আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম এবং আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জানলাম।
পরবর্তী অংশে আলোচনা করব:
- ভিটামিন সি কেন গুরুত্বপূর্ণ
- গর্ভাবস্থায় আয়রন সমৃদ্ধ খাবার
- কোষ্ঠকাঠিন্য হলে কী করবেন
- সরকারি আয়রন ট্যাবলেট এর নাম সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য
- এবং কোন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
অন্যান্য করণীয়
শুধু গর্ভাবস্থায় আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম জানলেই হবে না, বরং কিছু অতিরিক্ত বিষয়ও মেনে চলতে হবে। এগুলো অনুসরণ করলে শরীর আরও ভালোভাবে আয়রন শোষণ করতে পারে এবং ট্যাবলেটের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও অনেকটা কমে যায়।
ভিটামিন সি-এর সঙ্গে আয়রন গ্রহণ করুন

ভিটামিন সি শরীরে আয়রন শোষণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার সময় বা পরে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেলে উপকার পাওয়া যায়।
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ কিছু খাবার হলো:
- কমলা
- মাল্টা
- লেবু
- আমলকি
- পেয়ারা
- টমেটো
উদাহরণ হিসেবে, আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার কিছুক্ষণ পরে একটি কমলা বা পেয়ারা খেতে পারেন। তবে বাজারে পাওয়া অতিরিক্ত চিনিযুক্ত জুসের পরিবর্তে তাজা ফল খাওয়াই ভালো।
গর্ভাবস্থায় আয়রন সমৃদ্ধ খাবার
আয়রন ট্যাবলেটের পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় গর্ভাবস্থায় আয়রন সমৃদ্ধ খাবার রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আয়রনসমৃদ্ধ কিছু খাবার হলো:
- কলিজা (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সীমিত পরিমাণে)
- গরুর মাংস
- মাছ
- ডিমের কুসুম
- পালং শাক
- লাল শাক
- কলাই ডাল
- ছোলা
- মসুর ডাল
- কিশমিশ
- খেজুর
শুধু ট্যাবলেটের ওপর নির্ভর না করে পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি আরও কমে।
কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ
আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার একটি সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো কোষ্ঠকাঠিন্য।
এটি নিয়ে অনেক গর্ভবতী মা দুশ্চিন্তায় পড়েন। তবে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো যায়।
কী করবেন?
- প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আঁশযুক্ত খাবার খান।
- নিয়মিত হালকা হাঁটাচলা করুন।
- ফলমূল ও শাকসবজি বেশি খান।
- দীর্ঘ সময় মল চেপে রাখবেন না।
যদি কোষ্ঠকাঠিন্য খুব বেশি হয়, তাহলে নিজে থেকে কোনো জোলাপ (Laxative) খাবেন না। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
সরকারি আয়রন ট্যাবলেট এর নাম
অনেকেই জানতে চান সরকারি আয়রন ট্যাবলেট এর নাম কী। বাংলাদেশের সরকারি মাতৃস্বাস্থ্য কর্মসূচিতে সাধারণত Iron-Folic Acid (IFA) ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়। এতে আয়রনের পাশাপাশি ফলিক অ্যাসিডও থাকে, যা গর্ভের শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও জন্মগত কিছু ত্রুটি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে বিভিন্ন সময়ে সরকারি সরবরাহকারীর ওপর নির্ভর করে ট্যাবলেটের ব্র্যান্ড বা প্যাকেটের নাম ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট কোনো ব্র্যান্ডের নামের চেয়ে চিকিৎসক বা সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে দেওয়া আয়রন-ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট নিয়মিত খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার সময় যেসব ভুল করবেন না
অনেকেই অজান্তেই কিছু ভুল করেন, যার ফলে আয়রন ট্যাবলেটের কার্যকারিতা কমে যায়।
এড়িয়ে চলুন:
- একই সময়ে ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খাওয়া।
- চা বা কফির সঙ্গে আয়রন ট্যাবলেট খাওয়া।
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ট্যাবলেট বন্ধ করে দেওয়া।
- ডোজ ভুলে গেলে পরেরবার একসঙ্গে দুইটি ট্যাবলেট খাওয়া।
- শুধু ট্যাবলেট খেয়ে পুষ্টিকর খাবার না খাওয়া।
মনে রাখবেন, আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম সঠিকভাবে মেনে চললে রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করা সহজ হয় এবং মা ও গর্ভের শিশুর সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও যোগাযোগ
গর্ভাবস্থায় আয়রন ট্যাবলেট, রক্তস্বল্পতা বা মাতৃস্বাস্থ্য সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে সঠিক পরামর্শের জন্য একজন অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
আপনি যোগাযোগ করতে পারেন হারভেস্ট ইনফার্টিলিটি কেয়ার-এ, যেখানে পরামর্শ প্রদান করেন বাংলাদেশের প্রথম এবং ২৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এম্ব্রায়োলজিস্ট ডাঃ মুশতাক আহমেদ।
আজই যোগাযোগ করুন
মোবাইল:
- ০১৮১৭-১৪৬৬৪০
- ০১৭০৬৩২০০৩৯
প্রধান কার্যালয়
মান্নান হাইটস, সেকশন-১২, ব্লক-বি, রোড-৬, হাউস-১০০, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা-১২২১।
মিরপুর-১০ চেম্বার
চতুর্থ তলা, বাসা-০১, রোড-০৭, ব্লক-এ, সেকশন-১০, মিরপুর-১০, ঢাকা-১২১৬।
সিলেট চেম্বার
থাইরোকেয়ার লেভেল-৩, আল মাদানী টাওয়ার, আজাদি ৬১-৬২, নয়া সড়ক, মিরবক্স টুলা, সিলেট। সিলেট উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালের বিপরীতে।
দিনাজপুর চেম্বার
ইউনিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিকেল মোড় (হাসপাতাল ২ নম্বর গেটের সামনে), দিনাজপুর সদর-৫২০০।