প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট ব্যবহারের নিয়ম

সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বা মাসিক নির্ধারিত সময়ে না হলে অনেকের মনেই প্রথম যে প্রশ্নটি আসে, সেটি হলো, আমি কি গর্ভবতী? এই প্রশ্নের দ্রুত উত্তর পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট ব্যবহার করা।

বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের বেবি টেস্ট কিট পাওয়া যায়, যা বাড়িতেই খুব সহজে ব্যবহার করা যায়। তবে সঠিক ফলাফল পাওয়ার জন্য প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট ব্যবহারের নিয়ম জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় ভুল সময়ে পরীক্ষা করা, কিট সঠিকভাবে ব্যবহার না করা বা ফলাফল ভুলভাবে পড়ার কারণে বিভ্রান্তিকর ফল আসতে পারে।

পরীক্ষা করার প্রস্তুতি ও ধাপসমূহ

সঠিক ফলাফল পাওয়ার জন্য শুধু কিট কিনলেই হবে না, বরং এটি সঠিক নিয়মে ব্যবহার করতে হবে।

নমুনা সংগ্রহ

পরীক্ষা শুরুর আগে একটি পরিষ্কার ও শুকনো পাত্র প্রস্তুত করুন।

এরপর সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম প্রস্রাব ওই পাত্রে সংগ্রহ করুন।

নমুনা সংগ্রহের সময় খেয়াল রাখুন,

  • পাত্র অবশ্যই পরিষ্কার হতে হবে।
  • সাবান বা রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ থাকা যাবে না।
  • প্রস্রাব সংগ্রহ করার পর যত দ্রুত সম্ভব পরীক্ষা করুন।
  • অনেকক্ষণ রেখে দেওয়া নমুনা ব্যবহার না করাই ভালো।

যদিও কিছু কাঠি দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট সরাসরি প্রস্রাবের ধারায় ব্যবহার করা যায়, তবুও অধিকাংশ কিটে পাত্রে প্রস্রাব সংগ্রহ করে ড্রপার ব্যবহার করার নির্দেশনা থাকে। তাই কিটের নির্দেশিকা অবশ্যই পড়ে নিন।

প্রস্রাব প্রয়োগ

প্রস্রাব সংগ্রহ করার পর কিটের সঙ্গে দেওয়া ড্রপার ব্যবহার করুন।

এরপর কিটে নির্ধারিত যে ছোট গোল বা চিহ্নিত ঘর (Sample Well) থাকে সেখানে নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণত ২–৪ ফোঁটা প্রস্রাব দিন।

এ সময় কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখুন,

  • অতিরিক্ত প্রস্রাব দেবেন না।
  • ভুল স্থানে প্রস্রাব ফেলবেন না।
  • কিটটি সমতল জায়গায় রাখুন।
  • কিট নাড়াচাড়া করবেন না।

এই ধাপটি সঠিকভাবে অনুসরণ করলে ফলাফল নির্ভুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

অপেক্ষা করুন

প্রস্রাব দেওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল দেখার চেষ্টা করবেন না। সাধারণত ৩ থেকে ৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। তবে বিভিন্ন কোম্পানির বেবি টেস্ট কিট-এর নিয়ম কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তাই কিটের নির্দেশিকা দেখে সময় নিশ্চিত করুন।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো,

অনেকেই ১০–১৫ মিনিট পরে ফলাফল দেখেন। এটি ঠিক নয়।

কারণ নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে দেখা লাইন অনেক সময় Evaporation Line হতে পারে, যা ভুলভাবে পজিটিভ মনে হতে পারে।

তাই নির্দেশিত সময়ের মধ্যেই ফলাফল পড়তে হবে।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সঠিক সময়

শুধু প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট ব্যবহারের নিয়ম জানলেই হবে না, কখন পরীক্ষা করবেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে ভালো সময় হলো,

  • মাসিক নির্ধারিত তারিখ পার হওয়ার পর।
  • অথবা অসুরক্ষিত যৌনমিলনের অন্তত ১০–১৪ দিন পরে।

খুব তাড়াতাড়ি পরীক্ষা করলে শরীরে hCG-এর পরিমাণ কম থাকার কারণে ফলাফল নেগেটিভ আসতে পারে, যদিও গর্ভধারণ হয়ে থাকে। তাই যদি প্রথম পরীক্ষায় নেগেটিভ আসে কিন্তু মাসিক না হয়, তাহলে ৪৮–৭২ ঘণ্টা পরে আবার পরীক্ষা করা যেতে পারে।

ফলাফল বোঝার উপায়

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট ব্যবহারের নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ করার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফলাফল সঠিকভাবে বোঝা। বাজারে থাকা অধিকাংশ বেবি টেস্ট কিট বা কাঠি দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট-এ সাধারণত দুটি চিহ্ন থাকে,

  • C (Control)
  • T (Test)

এই দুটি স্থানে লাইন উঠেছে কি না, তার ওপর ভিত্তি করে ফলাফল নির্ধারণ করা হয়। তবে মনে রাখবেন, বিভিন্ন কোম্পানির কিটের নির্দেশনা কিছুটা আলাদা হতে পারে। তাই ব্যবহারের আগে কিটের নির্দেশিকা অবশ্যই পড়ে নিন।

পজিটিভ (গর্ভধারণ নিশ্চিত)

যদি C এবং T—দুই জায়গাতেই লাইন দেখা যায়, তাহলে সাধারণত ফলাফল পজিটিভ ধরা হয়।

এক্ষেত্রে,

  • T লাইনের রং হালকা হলেও সেটি পজিটিভ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
  • খুব প্রাথমিক অবস্থায় hCG হরমোনের পরিমাণ কম থাকায় T লাইন হালকা দেখা যেতে পারে।
  • ফলাফল পজিটিভ হলে যত দ্রুত সম্ভব একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

এরপর চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাফি বা অন্যান্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন।

পজিটিভ ফলাফল পাওয়ার পর কী করবেন?

যদি প্রেগনেন্সি টেস্ট পজিটিভ আসে, তাহলে,

  • ফলিক অ্যাসিড খাওয়া শুরু করুন (যদি আগে থেকে না খেয়ে থাকেন এবং চিকিৎসক পরামর্শ দেন)।
  • ধূমপান, অ্যালকোহল ও ক্ষতিকর অভ্যাস সম্পূর্ণ বন্ধ করুন।
  • চিকিৎসকের সঙ্গে প্রথম গর্ভকালীন চেকআপের সময় নির্ধারণ করুন।
  • নিজে থেকে কোনো ওষুধ শুরু বা বন্ধ করবেন না।

নেগেটিভ (গর্ভধারণ হয়নি)

যদি শুধুমাত্র C লাইনে একটি দাগ দেখা যায় এবং T লাইনে কোনো দাগ না থাকে, তাহলে ফলাফল সাধারণত নেগেটিভ।

তবে এর অর্থ সব সময় গর্ভধারণ হয়নি—এমন নয়।

নেগেটিভ ফলাফল আসার কিছু সম্ভাব্য কারণ,

  • খুব তাড়াতাড়ি পরীক্ষা করা হয়েছে।
  • প্রস্রাবে hCG-এর মাত্রা তখনও যথেষ্ট বাড়েনি।
  • নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়নি।
  • পর্যাপ্ত সময় অপেক্ষা করা হয়নি।

যদি মাসিক এখনও না হয় এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে, তাহলে ৪৮–৭২ ঘণ্টা পরে আবার প্রেগনেন্সি টেস্ট করুন এরপরও যদি ফলাফল নেগেটিভ আসে কিন্তু মাসিক বন্ধ থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

অবৈধ (ইনভ্যালিড)

যদি C লাইনে কোনো দাগ না আসে, তাহলে পরীক্ষাটি ইনভ্যালিড (Invalid) হিসেবে গণ্য হবে।

এমন হতে পারে যদি,

  • কিটটি নষ্ট হয়ে থাকে।
  • মেয়াদোত্তীর্ণ কিট ব্যবহার করা হয়।
  • প্রস্রাব সঠিকভাবে দেওয়া না হয়।
  • খুব বেশি বা খুব কম প্রস্রাব ব্যবহার করা হয়।
  • কিট ব্যবহারে ভুল হয়।

এ অবস্থায় আগের ফলাফলের ওপর নির্ভর না করে নতুন একটি বেবি টেস্ট কিট দিয়ে আবার পরীক্ষা করতে হবে।

কী কারণে ভুল ফলাফল আসতে পারে?

অনেকেই অভিযোগ করেন যে প্রথমে নেগেটিভ এসেছে, পরে আবার পজিটিভ হয়েছে। এর কারণ হতে পারে:

  • মাসিক মিস হওয়ার আগেই পরীক্ষা করা।
  • সকালের প্রথম প্রস্রাব ব্যবহার না করা।
  • কিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া।
  • নির্দেশিত সময়ের পরে ফলাফল দেখা।
  • ভুলভাবে কিট সংরক্ষণ করা।
  • hCG হরমোনযুক্ত কিছু ওষুধ ব্যবহার করা।

এই কারণগুলো এড়িয়ে চললে পরীক্ষার ফলাফল অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য হয়।

কখন শুধু কিটের ওপর নির্ভর করবেন না?

যদিও প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট বেশ নির্ভরযোগ্য, তবুও কিছু পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র কিটের ফলাফলের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

যেমন:

  • পজিটিভ ফলাফলের সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা থাকলে।
  • যোনিপথ দিয়ে রক্তপাত হলে।
  • বারবার নেগেটিভ এলেও মাসিক দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে।
  • একবার পজিটিভ, পরে নেগেটিভ ফলাফল এলে।
  • এক্টোপিক প্রেগন্যান্সির সন্দেহ থাকলে।

এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও যোগাযোগ

গর্ভধারণ, বন্ধ্যাত্ব বা মাতৃস্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়ে সঠিক পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন হারভেস্ট ইনফার্টিলিটি কেয়ার-এ। এখানে আপনি পরামর্শ নিতে পারবেন বাংলাদেশের প্রথম এবং ২৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ডাঃ মুশতাক আহমেদ-এর কাছ থেকে।

আজই যোগাযোগ করুন

মোবাইল:

  • ০১৮১৭-১৪৬৬৪০
  • ০১৭০৬৩২০০৩৯

প্রধান কার্যালয়

মান্নান হাইটস, সেকশন-১২, ব্লক-বি, রোড-৬, হাউস-১০০, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা-১২২১।

মিরপুর-১০ চেম্বার

চতুর্থ তলা, বাসা-০১, রোড-০৭, ব্লক-এ, সেকশন-১০, মিরপুর-১০, ঢাকা-১২১৬।

সিলেট চেম্বার

থাইরোকেয়ার লেভেল-৩, আল মাদানী টাওয়ার, আজাদি ৬১–৬২, নয়া সড়ক, মিরবক্স টুলা, সিলেট। সিলেট উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালের বিপরীতে।

দিনাজপুর চেম্বার

ইউনিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিকেল মোড় (হাসপাতাল ২ নম্বর গেটের সামনে), দিনাজপুর সদর–৫২০০।

Scroll to Top