গর্ভাবস্থায় কি কি সবজি খাওয়া যাবে না

কিছু সবজি আছে যেগুলো গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলা বা বিশেষ সতর্কতার সাথে খাওয়া উচিত। বিশেষ করে কাঁচা বা আধা-সেদ্ধ সবজি যেমন অঙ্কুরিত বীজ (স্প্রাউট) বা কাঁচা মূলা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বহন করতে পারে। এছাড়া না ধোয়া শাকসবজি, কাঁচা পেঁপে, সজিনা এবং অতিরিক্ত করলা খাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এসব খাবার থেকে লিস্টেরিয়া, ই. কোলি বা সালমোনেলা সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে, যা গর্ভাবস্থায় জটিলতা এমনকি গর্ভপাতের কারণও হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় শাকসবজি খাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম মেনে চলা জরুরি। চলুন বিস্তারিত জেনে নেই গর্ভাবস্থায় কি কি সবজি খাওয়া যাবে না। 

গর্ভাবস্থায় কি কি শাক ও সবজি খাওয়া যাবে না

কাঁচা অঙ্কুরিত সবজি 

কাঁচা অঙ্কুরিত সবজি 

অঙ্কুরিত বীজ বা স্প্রাউট (যেমন মুগ ডাল স্প্রাউট) সাধারণত স্বাস্থ্যকর হলেও গর্ভাবস্থায় কাঁচা অবস্থায় খাওয়া নিরাপদ নয়। এগুলোতে সহজেই লিস্টেরিয়া, ই. কোলি এবং সালমোনেলা ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে।

এই ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করলে ফুড পয়জনিং, জ্বর, ডায়রিয়া এমনকি গর্ভপাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই স্প্রাউট খেতে চাইলে অবশ্যই ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া উচিত।

কাঁচা পেঁপে 

কাঁচা বা আধা-পাকা পেঁপে

কাঁচা বা আধা-পাকা পেঁপে গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে “ল্যাটেক্স” নামক উপাদান থাকে, যা জরায়ুর সংকোচন বাড়াতে পারে।

বিশেষ করে গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে এটি গর্ভপাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে পাকা পেঁপে সাধারণত নিরাপদ, কারণ এতে ল্যাটেক্সের পরিমাণ অনেক কম থাকে। তবুও পরিমিতভাবে খাওয়া উচিত।

সজিনা

সজিনা

সজিনা বা ড্রামস্টিক পুষ্টিকর হলেও গর্ভাবস্থায় এর অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলা ভালো। বিশেষ করে সজিনার পাতা বা ছালে কিছু উপাদান থাকতে পারে, যা জরায়ুর কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই সজিনা খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাণে সংযম রাখা এবং ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া জরুরি।

কাঁচা মূলা ও সালাদ

কাঁচা মূলা ও সালাদ

কাঁচা মূলা এবং সালাদ (যেমন কাঁচা গাজর, শসা ইত্যাদি) যদি ভালোভাবে ধোয়া না হয়, তাহলে এতে থাকা জীবাণু শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

মাটির নিচে জন্মানো সবজি হওয়ায় মূলায় সহজেই ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। তাই কাঁচা খাওয়ার আগে এগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করা এবং সম্ভব হলে হালকা সেদ্ধ করে খাওয়া নিরাপদ।

অতিরিক্ত করলা

করলা

করলা পুষ্টিকর হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া গর্ভাবস্থায় সমস্যা তৈরি করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত কমিয়ে দিতে পারে এবং পেটে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।

তাই করলা সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।

নাইট্রেট সমৃদ্ধ সবজি

কিছু সবজি যেমন পালং শাক, লেটুস বা বিটরুটে নাইট্রেটের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে, বিশেষ করে যদি এগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা হয়।

অতিরিক্ত নাইট্রেট শরীরে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং দীর্ঘ সময় রেখে দিলে এসব সবজিতে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পায়। তাই এসব সবজি সবসময় তাজা অবস্থায় খাওয়া এবং ভালোভাবে রান্না করা জরুরি।

গর্ভাবস্থায় শাক ও সবজি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া নয়, বরং সঠিকভাবে নির্বাচন ও প্রস্তুত করে খাওয়াই মূল বিষয়। সঠিকভাবে ধুয়ে, পরিষ্কার করে এবং ভালোভাবে রান্না করে খেলে বেশিরভাগ ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

আপনি যদি জানতে চান গর্ভাবস্থায় কি কি খাওয়া যাবে না বা একটি সম্পূর্ণ গর্ভবতী মায়ের নিষিদ্ধ খাবার তালিকা, তাহলে এই ধরনের সচেতনতা খুবই জরুরি। কোনো খাবার নিয়ে সন্দেহ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, যাতে মা ও শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করা যায়।

হারভেস্ট ইনফার্টিলিটি কেয়ার-এ আপনি বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা বিষয়ে পরামর্শ নিতে পারবেন ডাঃ মুশতাক আহমেদ-এর কাছ থেকে। তিনি বাংলাদেশের প্রথম এবং ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন infertility specialist ও embryologist হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়াও রয়েছে আরো অভিজ্ঞ ডাক্তার যারা কিনা আপনার সমস্যা অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। 

আজই যোগাযোগ করুন

মোবাইল:
০১৮১৭-১৪৬৬৪০
০১৭০৬৩২০০৩৯

ঠিকানা

প্রধান কার্যালয়:
ব্লক-এ, বাসা-০৯, রোড নং-০৬, মিরপুর-১০, ঢাকা-১২১৬
(মেট্রোরেলের পিলার নং ২৩৩ এবং ইনডোর স্টেডিয়ামের বিপরীতে)

সিলেট চেম্বারঃ থাইরোকেয়ার লেভেল-৩ আল মাদানী টাওয়ার, আজাদি ৬১,৬২ নয়া সড়ক মিরবক্স টুলা, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল হসপিটাল এর বিপরীত। 

দিনাজপুর চেম্বারঃ ইউনিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিকেল মোড় ( হাসপাতাল ২ নম্বর গেট এর সামনে) দিনাজপুর সদর ৫২০০। 

Scroll to Top