অনেকেই চেষ্টা করেও গর্ভধারণে দেরি হওয়ার মূল কারণ হলো সঠিক সময় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকা।
নারীদের মাসিক চক্রের একটি নির্দিষ্ট সময়ে ডিম্বস্ফোটন বা ওভুলেশন (Ovulation) ঘটে, যা গর্ভধারণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। সাধারণত মাসিক শুরুর ১২ থেকে ১৬তম দিনের মধ্যে এই সময়টি আসে, যখন সহবাস করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। বিশেষ করে ২৮–৩০ দিনের নিয়মিত মাসিক চক্রে পিরিয়ডের ১০ম থেকে ১৮তম দিনের মধ্যে সহবাস করা সবচেয়ে কার্যকর, আর ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫তম দিনকে ধরা হয় বাচ্চা নেওয়ার জন্য আদর্শ সময়।
আজকে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো বাচ্চা নেওয়ার সঠিক সময় এবং জানবো কিভাবে চেষ্টা করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
বাচ্চা নেওয়ার সঠিক সময়
ওভুলেশনের সময়

ওভুলেশন হলো সেই প্রক্রিয়া, যখন নারীর ডিম্বাশয় থেকে একটি পরিপক্ক ডিম্বাণু বের হয়ে ফ্যালোপিয়ান টিউবের দিকে অগ্রসর হয়। এই সময়টি গর্ভধারণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত নিয়মিত মাসিক চক্রে ওভুলেশন ঘটে পরবর্তী মাসিক শুরুর প্রায় ১৪ দিন আগে। অর্থাৎ, যাদের মাসিক চক্র ২৮ দিনের, তাদের ক্ষেত্রে ১৪তম দিনে ওভুলেশন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই সময়ে সহবাস করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা সর্বোচ্চ থাকে। তবে শুধু ওই দিনেই নয়, ওভুলেশন এর আগের দুই থেকে তিন দিনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
মাসিক চক্রের দিন

মাসিক চক্রের দিন বলতে সেই সময়কে বোঝায়, যখন গর্ভধারণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। এটি সাধারণত ওভুলেশন এর আগের ৪–৫ দিন এবং ওভুলেশন এর দিন মিলিয়ে একটি ছোট সময়কাল। যাদের মাসিক চক্র ২৮ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে নিয়মিত, তাদের ক্ষেত্রে পিরিয়ডের ১০ম থেকে ১৮তম দিন পর্যন্ত সময়টিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়। এই সময়ে নিয়মিত সহবাস করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রতিদিনের পরিবর্তে একদিন পরপর সহবাস করলে অনেক ক্ষেত্রে ভালো ফল পাওয়া যায়।
লক্ষণ
অনেক নারী নিজের শরীরের কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করে ওভুলেশন এর সময় বুঝতে পারেন। এই লক্ষণগুলো সম্পর্কে জানা থাকলে বাচ্চা নেওয়ার সঠিক সময় নির্ধারণ করা সহজ হয়। ওভুলেশন এর সময় সাধারণত যোনিপথে স্বচ্ছ ও পিচ্ছিল স্রাব বৃদ্ধি পায়, যা ডিমের সাদা অংশের মতো দেখতে হয়। এই ধরনের স্রাব শুক্রাণুকে সহজে চলাচল করতে সাহায্য করে। এছাড়া তলপেটে হালকা ব্যথা বা চাপ অনুভূত হতে পারে, যা কিছু ক্ষেত্রে একপাশে বেশি হয়। অনেকের শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বেড়ে যায় এবং যৌন ইচ্ছাও বৃদ্ধি পেতে পারে।
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে বুঝতে হবে শরীর গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় আছে।
সেরা বয়স
বাচ্চা নেওয়ার ক্ষেত্রে বয়স একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। নারীদের ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে গর্ভধারণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। এই সময়ে ডিম্বাণুর গুণগত মান ভালো থাকে এবং গর্ভধারণের ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে। ৩০ বছরের পর ধীরে ধীরে Fertility কমতে শুরু করে এবং ৩৫ বছরের পর গর্ভধারণ কিছুটা কঠিন হয়ে যেতে পারে। এছাড়া গর্ভাবস্থায় কিছু জটিলতার ঝুঁকিও বাড়ে।
পুরুষদের ক্ষেত্রেও বয়স বাড়ার সাথে সাথে শুক্রাণুর গুণগত মান কিছুটা কমতে পারে, যদিও তারা তুলনামূলক দীর্ঘ সময় পর্যন্ত প্রজননক্ষম থাকেন।
অনিয়মিত পিরিয়ড

যাদের মাসিক চক্র অনিয়মিত, তাদের জন্য বাচ্চা নেওয়ার সঠিক সময় নির্ধারণ করা তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। কারণ এই ক্ষেত্রে ওভুলেশন কখন হচ্ছে তা নির্দিষ্টভাবে বোঝা যায় না। এই পরিস্থিতিতে নিয়মিত সহবাস করা একটি কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে। এছাড়া Ovulation predictor kit ব্যবহার করা যেতে পারে, যা প্রস্রাবের মাধ্যমে হরমোনের পরিবর্তন শনাক্ত করে ওভুলেশন এর সময় নির্দেশ করে।
মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে মাসিক চক্র ট্র্যাক করাও সহায়ক হতে পারে। শরীরের স্বাভাবিক লক্ষণগুলোর দিকেও নজর রাখা জরুরি। যদি দীর্ঘদিন চেষ্টা করার পরও গর্ভধারণ না হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিয়ের পর কি করলে বাচ্চা হয়
বিয়ের পর অনেক দম্পতি দ্রুত সন্তান নিতে চান, কিন্তু কীভাবে শুরু করবেন বা কী করলে গর্ভধারণ সহজ হবে, এই বিষয়টি অনেকের কাছেই পরিষ্কার থাকে না। বাস্তবে, শুধু সহবাস করলেই সব সময় গর্ভধারণ হয় না; বরং সঠিক সময়, শারীরিক প্রস্তুতি এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসের উপর এটি নির্ভর করে।
- প্রথমত, বাচ্চা নেওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক সময়ে সহবাস করা। নারীর ওভুলেশন বা মাসিক চক্রের দিন এর সময় সহবাস করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই মাসিক চক্র অনুযায়ী এই সময় নির্ধারণ করা জরুরি।
- দ্বিতীয়ত, নিয়মিত সহবাস করা দরকার। তবে প্রতিদিন সহবাস না করে একদিন পরপর সহবাস করলে শুক্রাণুর গুণগত মান ভালো থাকে এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ে।
- তৃতীয়ত, মানসিক চাপ কম রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেস শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যা ওভুলেশন এ প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়া, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গর্ভধারণে বড় ভূমিকা রাখে। পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং ক্ষতিকর অভ্যাস যেমন ধূমপান বা অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা জরুরি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পরিকল্পিতভাবে সঠিক সময়ে চেষ্টা এবং সুস্থ জীবনযাপন বজায় রাখলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
বিয়ের পর কিভাবে বাচ্চা নিতে হয়
অনেকেই জানতে চান, বিয়ের পর কিভাবে বাচ্চা নিতে হয় বা কীভাবে পরিকল্পনা করলে দ্রুত গর্ভধারণ সম্ভব। এটি একটি ধাপে ধাপে অনুসরণযোগ্য প্রক্রিয়া, যেখানে সচেতনতা এবং ধৈর্য দুটোই গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রথম ধাপ হলো নারীর মাসিক চক্র বোঝা। নিয়মিত মাসিক হলে সহজেই বোঝা যায় কোন সময় ওভুলেশন হচ্ছে। এর ভিত্তিতে মাসিক চক্রের দিন নির্ধারণ করা যায়।
- দ্বিতীয় ধাপে, সেই মাসিক চক্রের দিন এ সহবাসের পরিকল্পনা করতে হবে। সাধারণত পিরিয়ডের ১০ম থেকে ১৮তম দিনের মধ্যে নিয়মিত সহবাস করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
- তৃতীয় ধাপে, সহবাসের সময় আরামদায়ক এবং স্বাভাবিক থাকা জরুরি। সহবাসের পর কিছু সময় বিশ্রাম নিলে অনেকেই উপকার পান, যদিও এটি সব ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়।
- চতুর্থ ধাপে, ধৈর্য রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় প্রথম মাসেই গর্ভধারণ না হলেও হতাশ হওয়ার কারণ নেই। স্বাভাবিকভাবে ৬ মাস থেকে ১ বছর সময় লাগতে পারে।
যদি দীর্ঘ সময় চেষ্টা করার পরও গর্ভধারণ না হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, যাতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সমস্যার সমাধান করা যায়।

দ্রুত গর্ভধারণের জন্য করণীয়
দ্রুত গর্ভধারণের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মেনে চলা জরুরি। সঠিক অভ্যাস এবং জীবনযাত্রা Fertility বাড়াতে সাহায্য করে এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।
- সঠিক সময়ে সহবাস করুন: ওভুলেশন বা মাসিক চক্রের দিন এর সময় সহবাস করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।তাই মাসিক চক্র অনুযায়ী সময় নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
- নিয়মিত কিন্তু পরিকল্পিত সহবাস করুন: প্রতিদিনের পরিবর্তে একদিন পরপর সহবাস করলে শুক্রাণুর গুণগত মান ভালো থাকে এবং সফলতার সম্ভাবনা বাড়ে।
- পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন: প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফল, শাকসবজি, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রাখুন। অতিরিক্ত ফাস্টফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।
- শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: অতিরিক্ত ওজন বা কম ওজন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, যা Ovulation-এ সমস্যা তৈরি করে।
- ফোলিক অ্যাসিড গ্রহণ করুন: গর্ভধারণের আগে থেকেই ফোলিক অ্যাসিড নেওয়া শুরু করা ভালো, যা ভবিষ্যৎ শিশুর সুস্থ বিকাশে সাহায্য করে।
- স্ট্রেস বা মানসিক চাপ কমান: অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা হরমোনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং গর্ভধারণ বিলম্বিত করতে পারে।
- ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করুন: এগুলো নারী ও পুরুষ উভয়ের Fertility কমিয়ে দেয়, তাই সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা উচিত।
- পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন: প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন: হালকা ব্যায়াম শরীরকে সুস্থ রাখে এবং প্রজনন ক্ষমতা উন্নত করতে সহায়তা করে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
কতদিন চেষ্টা করলে গর্ভধারণ হয়?
সাধারণত সুস্থ দম্পতির ক্ষেত্রে ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে গর্ভধারণ হওয়া স্বাভাবিক।
প্রতিদিন সহবাস করা কি দরকার?
প্রতিদিন সহবাস করা বাধ্যতামূলক নয়। একদিন পরপর সহবাস করাই অধিক কার্যকর এবং এতে শুক্রাণুর গুণগত মান ভালো থাকে।
ওভুলেশন মিস হলে কী হবে?
যদি ওভুলেশন এর সময় সহবাস না করা হয়, তাহলে ওই মাসে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে যায়। তবে পরবর্তী মাসে আবার চেষ্টা করা যায়।
কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত?
যদি এক বছর নিয়মিত চেষ্টা করার পরও গর্ভধারণ না হয়, অথবা নারীর বয়স ৩০ বছরের বেশি হলে ৬ মাস চেষ্টা করার পর চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বাচ্চা নেওয়ার সঠিক সময় সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে গর্ভধারণ অনেক সহজ হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ভুল সময়ে চেষ্টা করার কারণে দম্পতিরা হতাশ হয়ে পড়েন। সঠিক সময়ে সহবাস, সুস্থ জীবনযাপন এবং মানসিকভাবে স্থির থাকা এই তিনটি বিষয় গর্ভধারণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যদি নিয়ম মেনে চেষ্টা করার পরও সমস্যা হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এতে দ্রুত সমস্যার কারণ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয় এবং সুস্থ সন্তান লাভের সম্ভাবনা বাড়ে।
চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে আজই যোগাযোগ করুন, হারভেস্ট ইনফার্টিলিটি কেয়ার এ যেখানে আপনি পরামর্শ নিতে পারবেন বাংলাদেশের প্রথম এবং ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বাংলাদেশের সেরা বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ডাঃ মুশতাক আহমেদ এর কাছ থেকে।
আজই যোগাযোগ করুনঃ
মোবাইলঃ ০১৮১৭-১৪৬৬৪০, ০১৭০৬৩২০০৩৯
ঠিকানাঃ
প্রধান কার্যালয়ঃ মান্নান হাইটস, সেকশন-১২, ব্লক-বি, রোড-৬, হাউস-১০০, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা-১২২১
মিরপুর-১০ চেম্বারঃ চতুর্থ তলা, বাসা-০১, রোড-০৭, ব্লক-এ, সেকশন-১০, মিরপুর-১০, ঢাকা-১২১৬
সিলেট চেম্বারঃ থাইরোকেয়ার লেভেল-৩ আল মাদানী টাওয়ার, আজাদি ৬১,৬২ নয়া সড়ক মিরবক্স টুলা, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল হসপিটাল এর বিপরীত।
দিনাজপুর চেম্বারঃ ইউনিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিকেল মোড় ( হাসপাতাল ২ নম্বর গেট এর সামনে) দিনাজপুর সদর ৫২০০।