পুরুষদের কেগেল ব্যায়াম করার নিয়ম

অনেকেই মনে করেন কেগেল ব্যায়াম শুধুমাত্র নারীদের জন্য। কিন্তু বাস্তবে পুরুষদের কেগেল ব্যায়াম করার নিয়ম জানা এবং নিয়মিত অনুশীলন করা পুরুষদের শারীরিক ও যৌন স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এই ব্যায়াম পেলভিক ফ্লোরের পেশীকে শক্তিশালী করে, প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা উন্নত করে, ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে এবং যৌন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

বর্তমান সময়ে অনেক পুরুষ প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে সমস্যা, দুর্বল পেলভিক পেশী বা যৌন স্বাস্থ্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। এসব ক্ষেত্রে সঠিকভাবে কেগেল ব্যায়াম বা কেগেল এক্সারসাইজ অনুশীলন করলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।

কেগেল ব্যায়াম কী?

কেগেল ব্যায়াম হলো এমন একটি বিশেষ ব্যায়াম যা পেলভিক ফ্লোরের পেশীগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য করা হয়। এই পেশীগুলো মূত্রথলি, অন্ত্র এবং প্রজনন অঙ্গকে সাপোর্ট দেয়।

যখন এই পেশীগুলো দুর্বল হয়ে যায়, তখন প্রস্রাব ধরে রাখতে সমস্যা, যৌন দুর্বলতা এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত কেগেল ব্যায়াম করলে এই পেশীগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত হয়।

কেগেল ব্যায়ামের উপকারিতা

নিয়মিত কেগেল ব্যায়ামের উপকারিতা অনেক। বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব অত্যন্ত ইতিবাচক।

প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করে

যাদের হাঁচি, কাশি বা ভারী কিছু তোলার সময় প্রস্রাব বের হয়ে যায়, তাদের জন্য কেগেল ব্যায়াম উপকারী হতে পারে। এটি মূত্রথলির নিয়ন্ত্রণ উন্নত করে।

পেলভিক ফ্লোর পেশী শক্তিশালী করে

এই ব্যায়াম পেলভিক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পেশীগুলোকে শক্তিশালী করে, যা দৈনন্দিন শারীরিক কার্যক্রমে সহায়তা করে।

ইরেক্টাইল ডিসফাংশন কমাতে সাহায্য করে

গবেষণায় দেখা গেছে, পেলভিক ফ্লোর পেশী শক্তিশালী হলে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ইরেক্টাইল ফাংশন ভালো হতে পারে।

যৌন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে

নিয়মিত কেগেল এক্সারসাইজ যৌন জীবনের মান উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। অনেক পুরুষ যৌন আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাওয়ার অভিজ্ঞতা জানান।

প্রোস্টেট অপারেশনের পর দ্রুত পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে

প্রোস্টেট সার্জারির পর অনেক রোগীকে চিকিৎসক কেগেল ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন, কারণ এটি প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে।

কেগেল ব্যায়াম করার ছবি দেখে শেখা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

অনেক মানুষ প্রথমবার কেগেল ব্যায়াম করার ছবি দেখে ব্যায়ামটি বোঝার চেষ্টা করেন। কারণ পেলভিক ফ্লোর পেশী শরীরের ভেতরে অবস্থান করে, তাই শুধুমাত্র বর্ণনা শুনে অনেক সময় সঠিক পেশী শনাক্ত করা কঠিন হয়।

একটি পরিষ্কার কেগেল ব্যায়াম করার ছবি বা ডায়াগ্রাম দেখলে কোন পেশী সংকুচিত করতে হবে এবং কোন পেশী ব্যবহার করা যাবে না, তা সহজে বোঝা যায়। তবে শুধুমাত্র ছবি দেখাই যথেষ্ট নয়; সঠিক কৌশলও জানতে হবে।

পেলভিক ফ্লোর পেশী কীভাবে শনাক্ত করবেন?

কেগেল ব্যায়ামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সঠিক পেশী শনাক্ত করা। প্রস্রাব করার সময় মাঝপথে প্রস্রাব আটকে রাখার চেষ্টা করুন। তখন যে পেশীগুলো সংকুচিত হয়, সেটাই আপনার পেলভিক ফ্লোর পেশী। তবে মনে রাখতে হবে, এটি শুধুমাত্র পেশী শনাক্ত করার একটি উপায়। নিয়মিত প্রস্রাব আটকে রেখে ব্যায়াম করা উচিত নয়, কারণ এতে মূত্রথলির স্বাভাবিক কার্যক্রমে সমস্যা হতে পারে।

পুরুষদের কেগেল ব্যায়াম করার নিয়ম

সঠিকভাবে পুরুষদের কেগেল ব্যায়াম করার নিয়ম অনুসরণ করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।

১. অবস্থান

শুরুতে চিত হয়ে শুয়ে ব্যায়াম করা সহজ হয়। পরে বসে বা দাঁড়িয়ে একই ব্যায়াম করতে পারেন।

শরীরকে স্বাভাবিক ও আরামদায়ক অবস্থায় রাখুন। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন।

২. সংকোচন

পেলভিক ফ্লোর পেশীগুলো ধীরে ধীরে সংকুচিত করুন। মনে করুন আপনি প্রস্রাব বা গ্যাস আটকে রাখার চেষ্টা করছেন।

পেশীগুলো ৩ থেকে ৫ সেকেন্ড ধরে সংকুচিত অবস্থায় রাখুন।

৩. শিথিলকরণ

এবার পেশীগুলো সম্পূর্ণভাবে শিথিল করুন।

৩ থেকে ৫ সেকেন্ড বিশ্রাম নিন। সংকোচনের মতো শিথিল করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

৪. পুনরাবৃত্তি

একবারে ১০ থেকে ১৫ বার পুনরাবৃত্তি করুন।

প্রতিদিন ৩ সেট করার চেষ্টা করুন। ধীরে ধীরে পেশী শক্তিশালী হলে সংকোচনের সময় ১০ সেকেন্ড পর্যন্ত বাড়াতে পারেন।

কেগেল ব্যায়াম করার সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

অনেকেই ব্যায়াম করার সময় কিছু সাধারণ ভুল করে থাকেন, যার ফলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না।

  • পেটের পেশী অতিরিক্ত শক্ত করা।
  • নিতম্ব বা উরুর পেশী ব্যবহার করা।
  • শ্বাস আটকে রাখা।
  • খুব দ্রুত ব্যায়াম করা।
  • অনিয়মিতভাবে অনুশীলন করা।

সঠিক ফল পেতে শুধুমাত্র পেলভিক ফ্লোর পেশী ব্যবহার করুন এবং নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যান।

কতদিন করলে ফল পাওয়া যায়?

ব্যক্তিভেদে ফলাফলের সময় ভিন্ন হতে পারে। অনেকেই ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে উন্নতি অনুভব করেন। তবে সর্বোত্তম ফল পেতে সাধারণত ২ থেকে ৩ মাস নিয়মিত কেগেল এক্সারসাইজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ধৈর্য ধরে প্রতিদিন অনুশীলন করা গুরুত্বপূর্ণ।

কারা কেগেল ব্যায়াম করবেন?

নিম্নোক্ত সমস্যাগুলো থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কেগেল ব্যায়াম উপকারী হতে পারে,

  • প্রস্রাব ধরে রাখতে সমস্যা।
  • প্রোস্টেট সার্জারির পর পুনর্বাসন।
  • পেলভিক ফ্লোর পেশীর দুর্বলতা।
  • ইরেক্টাইল ডিসফাংশন।
  • যৌন সক্ষমতা উন্নত করার প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

যদি আপনি প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রণ সমস্যা, ইরেক্টাইল ডিসফাংশন, পেলভিক ফ্লোর দুর্বলতা বা বন্ধ্যাত্বজনিত কোনো সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাহলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে আজই যোগাযোগ করুন হারভেস্ট ইনফার্টিলিটি কেয়ার-এ, যেখানে আপনি পরামর্শ নিতে পারবেন বাংলাদেশের প্রথম এবং ২৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ডাঃ মুশতাক আহমেদ এর কাছ থেকে।

আজই যোগাযোগ করুন

মোবাইল:

০১৮১৭-১৪৬৬৪০, ০১৭০৬-৩২০০৩৯

প্রধান কার্যালয়

মান্নান হাইটস, সেকশন-১২, ব্লক-বি, রোড-৬, হাউস-১০০, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা-১২২১

মিরপুর-১০ চেম্বার

চতুর্থ তলা, বাসা-০১, রোড-০৭, ব্লক-এ, সেকশন-১০, মিরপুর-১০, ঢাকা-১২১৬

সিলেট চেম্বার

থাইরোকেয়ার লেভেল-৩, আল মাদানী টাওয়ার, আজাদি ৬১-৬২, নয়া সড়ক, মিরবক্স টুলা, সিলেট, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালের বিপরীতে।

দিনাজপুর চেম্বার

ইউনিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিকেল মোড় (হাসপাতাল ২ নম্বর গেটের সামনে), দিনাজপুর সদর-৫২০০

Scroll to Top