বর্তমান সময়ে অনেক দম্পতি সন্তান ধারণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন। এর অন্যতম একটি কারণ হলো পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়া বা শুক্রাণুর গুণগত মানের অবনতি। তবে সুখবর হলো, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে প্রাকৃতিকভাবে শুক্রাণুর সংখ্যা ও কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।
যারা শুক্রাণু বৃদ্ধির উপায় সম্পর্কে জানতে চান, তাদের জন্য এই লেখায় সহজ ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো।
পুষ্টিকর খাবার

শুক্রাণু উৎপাদন এবং এর গুণগত মান উন্নত করার ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে শুক্রাণু উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাবারে এমন কিছু পুষ্টি উপাদান রাখতে হবে যা প্রজনন স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে।
শুক্রাণু বৃদ্ধির খাবার কী কী?
জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার
জিঙ্ক পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি টেস্টোস্টেরন উৎপাদন এবং শুক্রাণুর সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার:
- গরুর মাংস
- ডিম
- কুমড়ার বীজ
- কাজুবাদাম
- সামুদ্রিক মাছ
ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার
ভিটামিন-সি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শুক্রাণুকে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকেলের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার:
- কমলা
- মাল্টা
- লেবু
- আমলকি
- পেয়ারা
ফোলেট সমৃদ্ধ খাবার
ফোলেট শুক্রাণুর গঠন এবং ডিএনএ সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ফোলেট সমৃদ্ধ খাবার:
- পালং শাক
- ব্রকলি
- শিম
- মসুর ডাল
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শুক্রাণুর গুণগত মান উন্নত করতে সাহায্য করে।
উপকারী খাবার:
- আখরোট
- কাঠবাদাম
- ব্লুবেরি
- ডালিম
- টমেটো
যারা শুক্রাণু বৃদ্ধির খাবার খুঁজছেন, তাদের জন্য উপরোক্ত খাবারগুলো নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী হতে পারে।
নিয়মিত ব্যায়াম
শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি ব্যায়াম পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিয়মিত ব্যায়াম রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং শুক্রাণু উৎপাদনে সহায়তা করে।
শুক্রাণু বৃদ্ধির ব্যায়াম
হাঁটা
প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট দ্রুত হাঁটা শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
স্কোয়াট
স্কোয়াট শরীরের বড় মাংসপেশিগুলোকে সক্রিয় করে এবং হরমোন উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
কেগেল ব্যায়াম
কেগেল ব্যায়াম পেলভিক ফ্লোরের পেশি শক্তিশালী করতে সাহায্য করে এবং পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্য উন্নত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
যোগব্যায়াম
কিছু নির্দিষ্ট যোগব্যায়াম যেমন ভুজঙ্গাসন, সেতুবন্ধাসন এবং পদ্মাসন মানসিক চাপ কমানোর পাশাপাশি শরীরের রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে।
তবে অতিরিক্ত বা অত্যন্ত কঠোর ব্যায়াম কখনও কখনও উল্টো প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিমিত ব্যায়াম করাই সবচেয়ে ভালো।

ধূমপান ও মদ্যপান বর্জন
শুক্রাণুর সংখ্যা এবং গুণগত মান কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ধূমপান ও মদ্যপানের মতো অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস। অনেক পুরুষই মনে করেন যে মাঝে মাঝে ধূমপান বা অল্প পরিমাণে মদ্যপান করলে কোনো সমস্যা হয় না, কিন্তু বাস্তবে এগুলো দীর্ঘমেয়াদে প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা নিকোটিন, কার্বন মনোক্সাইড এবং অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ শরীরের কোষের ক্ষতি করে। এর ফলে শুক্রাণুর উৎপাদন কমে যেতে পারে, শুক্রাণুর স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হতে পারে এবং ডিম্বাণুর সঙ্গে সফলভাবে মিলিত হওয়ার ক্ষমতাও হ্রাস পেতে পারে। এছাড়া ধূমপান শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ায়, যা শুক্রাণুর ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
একইভাবে মদ্যপানও পুরুষের প্রজনন ক্ষমতার জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে যেতে পারে এবং শুক্রাণু উৎপাদনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। দীর্ঘদিন মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি এর গতিশীলতা ও কার্যক্ষমতাও কমে যেতে পারে।
যারা বীর্য ঘন করার উপায় বা শুক্রাণু বৃদ্ধির উপায় খুঁজছেন, তাদের জন্য ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অনেক ক্ষেত্রে এসব অভ্যাস বন্ধ করার কয়েক মাসের মধ্যেই শুক্রাণুর মানের উন্নতি দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি তামাকজাত অন্যান্য পণ্য যেমন জর্দা, গুল, খৈনি বা ভ্যাপিং ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা উচিত, কারণ এগুলোরও নেতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে। সুস্থ প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য ধূমপান ও মদ্যপান বর্জনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
অনেকেই জানেন না যে মানসিক চাপ বা স্ট্রেসও পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। কর্মক্ষেত্রের চাপ, আর্থিক সমস্যা, পারিবারিক দুশ্চিন্তা, ঘুমের অভাব বা দীর্ঘদিনের উদ্বেগ শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। মানসিক চাপ বেড়ে গেলে শরীরে কর্টিসল নামক একটি স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত কর্টিসল টেস্টোস্টেরন উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা শুক্রাণু উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দীর্ঘমেয়াদি স্ট্রেসের কারণে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যেতে পারে এবং এর গুণগত মানও খারাপ হতে পারে।
এছাড়া মানসিক চাপের কারণে অনেক মানুষের ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের বিভিন্ন হরমোন স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ভালো ঘুম পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মানসিক চাপ কমানোর জন্য নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করা যেতে পারে:
- প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
- নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করুন।
- মেডিটেশন, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করতে পারেন।
- মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় কমান।
- পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান।
- প্রয়োজন হলে কাউন্সেলর বা বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিন।
অনেক সময় সন্তান ধারণে বিলম্ব হওয়ার কারণে দম্পতিরা অতিরিক্ত মানসিক চাপে ভুগতে শুরু করেন। কিন্তু এই চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়া এবং মানসিকভাবে ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ।
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
শুক্রাণু উৎপাদনের জন্য অণ্ডকোষের তাপমাত্রা শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় সামান্য কম থাকা প্রয়োজন। প্রকৃতিগতভাবেই অণ্ডকোষ শরীরের বাইরে অবস্থান করে, যাতে উপযুক্ত তাপমাত্রা বজায় থাকে। যখন এই তাপমাত্রা দীর্ঘ সময়ের জন্য বেড়ে যায়, তখন শুক্রাণু উৎপাদন এবং এর গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বর্তমান জীবনযাত্রায় অনেক অভ্যাস রয়েছে যা অজান্তেই অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। যেমন দীর্ঘ সময় গরম পরিবেশে কাজ করা, গরম পানিতে গোসল করা, টাইট অন্তর্বাস পরা বা দীর্ঘক্ষণ কোলে ল্যাপটপ ব্যবহার করা।
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করা যেতে পারে:
ঢিলেঢালা পোশাক ব্যবহার করুন
অত্যন্ত টাইট প্যান্ট বা অন্তর্বাস শরীরের তাপ আটকে রাখতে পারে। আরামদায়ক এবং বাতাস চলাচল করতে পারে এমন পোশাক ব্যবহার করা ভালো।
দীর্ঘ সময় গরম পানিতে না থাকা
অতিরিক্ত গরম পানিতে গোসল, স্টিম বাথ বা হট টাব ব্যবহারের ফলে অণ্ডকোষের তাপমাত্রা সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। নিয়মিত এ ধরনের অভ্যাস থাকলে শুক্রাণু উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে।
কোলে ল্যাপটপ ব্যবহার কমান
ল্যাপটপ ব্যবহারের সময় উৎপন্ন তাপ সরাসরি শরীরে পৌঁছাতে পারে। তাই টেবিলের ওপর ল্যাপটপ ব্যবহার করাই ভালো।
দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে না থাকা
অফিসে কাজ করার সময় অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকেন। মাঝে মাঝে উঠে হাঁটাহাঁটি করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন ভালো থাকে এবং অতিরিক্ত তাপ জমে থাকার সম্ভাবনা কমে।
শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করার মাধ্যমে প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
যারা শুক্রাণু বৃদ্ধির ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করতে চান, তাদের জন্য তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ একটি সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যদিও এটি এককভাবে সব সমস্যার সমাধান নয়, তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং অন্যান্য ভালো অভ্যাসের সঙ্গে মিলিয়ে অনুসরণ করলে শুক্রাণুর স্বাস্থ্য উন্নত রাখতে সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
উপরোক্ত পদ্ধতিগুলো অনেক ক্ষেত্রে শুক্রাণুর স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করলেও, সব সমস্যার সমাধান শুধুমাত্র ঘরোয়া উপায়ে সম্ভব নয়। যদি দীর্ঘদিন চেষ্টা করার পরও সন্তান ধারণে সমস্যা হয়, অথবা পরীক্ষায় শুক্রাণুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম পাওয়া যায়, তাহলে একজন প্রজনন বিশেষজ্ঞ (Fertility Specialist)-এর পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
কারণ কিছু ক্ষেত্রে হরমোনজনিত সমস্যা, ভ্যারিকোসিল, সংক্রমণ বা অন্যান্য চিকিৎসাযোগ্য কারণ শুক্রাণুর সংখ্যা কমিয়ে দিতে পারে। সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
হারভেস্ট ইনফার্টিলিটি কেয়ার-এ আপনি বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা বিষয়ে পরামর্শ নিতে পারবেন ডাঃ মুশতাক আহমেদ-এর কাছ থেকে। তিনি বাংলাদেশের প্রথম এবং ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন infertility specialist ও embryologist হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়াও রয়েছে আরো অভিজ্ঞ ডাক্তার যারা কিনা আপনার সমস্যা অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
আজই যোগাযোগ করুন
মোবাইল:
০১৮১৭-১৪৬৬৪০
০১৭০৬৩২০০৩৯
ঠিকানা
প্রধান কার্যালয়:
ব্লক-এ, বাসা-০৯, রোড নং-০৬, মিরপুর-১০, ঢাকা-১২১৬
(মেট্রোরেলের পিলার নং ২৩৩ এবং ইনডোর স্টেডিয়ামের বিপরীতে)
সিলেট চেম্বার
থাইরোকেয়ার লেভেল-৩, আল মাদানী টাওয়ার, আজাদি ৬১-৬২, নয়া সড়ক, মিরবক্স টুলা, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল হসপিটাল-এর বিপরীত, সিলেট।
দিনাজপুর চেম্বার
ইউনিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিকেল মোড় (হাসপাতাল ২ নম্বর গেটের সামনে), দিনাজপুর সদর-৫২০০।
