বিয়ের পর অধিকাংশ দম্পতিরই স্বপ্ন থাকে একটি সুস্থ সন্তানকে ঘিরে নতুন জীবন শুরু করার। কিন্তু অনেক সময় নিয়মিত দাম্পত্য জীবন এবং কোনো ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার না করার পরও কাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ হয় না। তখন স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ, হতাশা এবং নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। সবচেয়ে সাধারণ প্রশ্ন হলো, বাচ্চা না হলে কি করতে হবে?
চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, যদি কোনো দম্পতি এক বছর ধরে নিয়মিত এবং অসুরক্ষিত দাম্পত্য সম্পর্কের পরও সন্তান ধারণে সফল না হন, তাহলে তাদের উভয়েরই একজন গাইনোকোলজিস্ট বা বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে স্ত্রীর বয়স যদি ৩৫ বছরের বেশি হয়, তাহলে ৬ মাস চেষ্টা করার পরই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
অনেক ক্ষেত্রে সামান্য কিছু পরিবর্তন, সঠিক সময়ে সহবাস এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। তাই আতঙ্কিত না হয়ে কারণ খুঁজে বের করা এবং সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

১. সঠিক সময়ে মেলামেশা (Ovulation Time)
বাচ্চা না হলে কি করতে হবে, এই প্রশ্নের প্রথম উত্তরের মধ্যে রয়েছে সঠিক সময়ে মেলামেশা করা। অনেক দম্পতি নিয়মিত চেষ্টা করলেও ডিম্বস্ফোটনের (Ovulation) সময় সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে যায়।
নারীর মাসিক চক্রের মাঝামাঝি সময়ে সাধারণত ডিম্বস্ফোটন ঘটে। ২৮ দিনের নিয়মিত মাসিক চক্র হলে সাধারণত ১৪তম দিনের কাছাকাছি সময়ে ডিম্বাণু বের হয়। এই সময়ের কয়েক দিন আগে এবং পরে সহবাস করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।
Ovulation সময় নির্ণয়ের উপায়
- মাসিক চক্রের হিসাব রাখা
- Ovulation Calculator ব্যবহার করা
- Ovulation Test Kit ব্যবহার করা
- শরীরের কিছু পরিবর্তন যেমন সার্ভিক্যাল মিউকাস বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করা
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী Follicular Monitoring করা
অনেক দম্পতি মনে করেন প্রতিদিন সহবাস করলেই গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ে। বাস্তবে ডিম্বস্ফোটনের সময়কে লক্ষ্য করে সহবাস করলে সফলতার হার আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

২. চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা
যদি দীর্ঘদিন চেষ্টা করার পরও গর্ভধারণ না হয়, তাহলে দেরি না করে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
অনেকেই ভুল করে শুধুমাত্র স্ত্রীকে পরীক্ষা করান। কিন্তু বাস্তবে বন্ধ্যাত্বের কারণ স্বামী বা স্ত্রী- উভয়ের মধ্যেই থাকতে পারে। তাই দুজনেরই মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা
- আল্ট্রাসোনোগ্রাফি
- হরমোন পরীক্ষা
- Ovulation Assessment
- Fallopian Tube পরীক্ষা (HSG)
- AMH Test
- Thyroid Function Test
পুরুষদের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা
- Semen Analysis
- হরমোন পরীক্ষা
- প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ ইউরোলজিস্টের মূল্যায়ন
অনেক সময় PCOS, থাইরয়েড সমস্যা, এন্ডোমেট্রিওসিস, জরায়ুর সমস্যা, শুক্রাণুর সংখ্যা কম হওয়া অথবা শুক্রাণুর গুণগত মান খারাপ হওয়ার কারণে সন্তান ধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব।

৩. জীবনযাত্রায় পরিবর্তন
যারা জানতে চান বাচ্চা না হলে কি করতে হবে, তাদের জন্য জীবনযাত্রার পরিবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বর্তমান ব্যস্ত জীবন, মানসিক চাপ এবং অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস অনেক সময় উর্বরতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
যেসব পরিবর্তন উপকারী হতে পারে
- পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা
- প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করা
- অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমানো
- ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য পরিহার করা
- অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকা
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
অতিরিক্ত ওজন বা অত্যধিক কম ওজন, দুই অবস্থাই নারীর ডিম্বস্ফোটন এবং পুরুষের শুক্রাণুর মানকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি স্ট্রেস শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, যা গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। তাই মানসিক সুস্থতার প্রতিও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

৪. খাদ্যাভ্যাস
সঠিক খাদ্যাভ্যাস উর্বরতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও শুধুমাত্র খাবারের মাধ্যমে বন্ধ্যাত্বের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়, তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস চিকিৎসার সফলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
যেসব খাবার উপকারী
- তাজা শাকসবজি
- মৌসুমি ফল
- মাছ
- ডিম
- দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার
- বাদাম ও বীজ
- ডাল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার
যেসব খাবার সীমিত করা উচিত
- অতিরিক্ত ফাস্টফুড
- সফট ড্রিংকস
- অতিরিক্ত চিনি
- অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার
- অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাদ্য
ফলিক অ্যাসিড, আয়রন, ভিটামিন ডি, জিংক এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার প্রজনন স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে কোনো সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৫. আধুনিক চিকিৎসা
বর্তমানে বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আগে যেসব দম্পতির সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা কম মনে করা হতো, আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের অনেকেই সফলভাবে সন্তান লাভ করছেন।
প্রচলিত আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি
Ovulation Induction
যেসব নারীর নিয়মিত ডিম্বস্ফোটন হয় না, তাদের জন্য ওষুধের মাধ্যমে ডিম্বস্ফোটন ঘটানো হয়।
IUI (Intrauterine Insemination)
বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত শুক্রাণু জরায়ুর ভিতরে প্রবেশ করানো হয়, যা গর্ভধারণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে পারে।
IVF (Test Tube Baby)
ডিম্বাণু এবং শুক্রাণুকে ল্যাবরেটরিতে নিষিক্ত করে ভ্রূণ তৈরি করা হয় এবং পরে জরায়ুতে স্থানান্তর করা হয়।
ICSI
গুরুতর পুরুষজনিত বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রে একটি শুক্রাণুকে সরাসরি ডিম্বাণুর ভিতরে প্রবেশ করিয়ে নিষেক সম্পন্ন করা হয়।
Fertility Preservation
ভবিষ্যতের জন্য ডিম্বাণু, শুক্রাণু বা ভ্রূণ সংরক্ষণ করা যায়।
আজকের দিনে অধিকাংশ বন্ধ্যাত্ব সমস্যার জন্য কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে। তাই বাচ্চা না হলে কি করতে হবে এই প্রশ্নের উত্তর হলো, সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা।
বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ যদি দীর্ঘদিন চেষ্টা করার পরও সন্তান ধারণে সফল না হন, তাহলে দেরি না করে একজন অভিজ্ঞ বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
হারভেস্ট ইনফার্টিলিটি কেয়ার-এ আপনি পরামর্শ নিতে পারবেন বাংলাদেশের প্রথম এবং ২৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ডাঃ মুশতাক আহমেদ এর কাছ থেকে।
আজই যোগাযোগ করুন
মোবাইল:
০১৮১৭-১৪৬৬৪০, ০১৭০৬-৩২০০৩৯
প্রধান কার্যালয়
মান্নান হাইটস, সেকশন-১২, ব্লক-বি, রোড-৬, হাউস-১০০, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা-১২২১
মিরপুর-১০ চেম্বার
চতুর্থ তলা, বাসা-০১, রোড-০৭, ব্লক-এ, সেকশন-১০, মিরপুর-১০, ঢাকা-১২১৬
সিলেট চেম্বার
থাইরোকেয়ার লেভেল-৩, আল মাদানী টাওয়ার, আজাদি ৬১-৬২, নয়া সড়ক, মিরবক্স টুলা, সিলেট, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালের বিপরীতে।
দিনাজপুর চেম্বার
ইউনিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিকেল মোড় (হাসপাতাল ২ নম্বর গেটের সামনে), দিনাজপুর সদর-৫২০০