সন্তান জন্মের পর একজন মায়ের শরীরে অনেক ধরনের পরিবর্তন ঘটে। এ সময় অনেকেই মনে করেন, যতদিন বুকের দুধ খাওয়ানো হবে ততদিন গর্ভধারণের কোনো সম্ভাবনা নেই। কিন্তু এটি সবসময় সত্য নয়। অনেক ক্ষেত্রে মাসিক শুরু হওয়ার আগেই ডিম্বস্ফোটন (Ovulation) হতে পারে, ফলে অসুরক্ষিত সহবাস করলে আবারও গর্ভধারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
এই কারণেই প্রসব পরবর্তী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সন্তান জন্মের পর নিরাপদে ব্যবহার করা যায় এমন বেশ কয়েকটি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি রয়েছে। যেমনঃ কনডম, মিনি পিল, কপার টি (আইইউডি), ইনজেকশন এবং স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি।
অনেকেই জানতে চান জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কোনটা ভালো অথবা জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল কোনটা ভালো। এর উত্তর সবার জন্য এক নয়। কারণ কোন পদ্ধতি আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হবে, তা নির্ভর করে আপনার বয়স, শারীরিক অবস্থা, বুকের দুধ খাওয়ানো হচ্ছে কি না, ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয়ের ওপর।
প্রসব পরবর্তী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি
কনডম

কনডম সবচেয়ে সহজ, নিরাপদ এবং সহজলভ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিগুলোর একটি। প্রসবের পর চিকিৎসক অনুমতি দিলে সহবাস শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই কনডম ব্যবহার করা যায়।
কনডমের সুবিধা
- হরমোনবিহীন পদ্ধতি।
- বুকের দুধের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।
- পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই কম।
- যৌনবাহিত সংক্রমণ (STI) প্রতিরোধেও সাহায্য করে।
- প্রেসক্রিপশন ছাড়াই সহজে পাওয়া যায়।
সীমাবদ্ধতা
- প্রতিবার সহবাসের সময় ব্যবহার করতে হয়।
- সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
- কিছু মানুষের ল্যাটেক্সে অ্যালার্জি থাকতে পারে।
যেসব দম্পতি আপাতত আরেকটি সন্তান নিতে চান না কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি কোনো পদ্ধতি বেছে নিতে প্রস্তুত নন, তাদের জন্য কনডম একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
মিনি পিল (প্রজেস্টিন-অনলি পিল)

অনেক নতুন মা জানতে চান জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল কোনটা ভালো। যদি মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসক মিনি পিল (Progestin-only Pill) ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন। এই পিলে ইস্ট্রোজেন থাকে না, তাই এটি অনেক বুকের দুধ খাওয়ানো মায়ের জন্য উপযুক্ত হতে পারে।
তবে কোন পিল আপনার জন্য নিরাপদ হবে, সেটি অবশ্যই চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।
মিনি পিলের সুবিধা
- বুকের দুধ উৎপাদনে সাধারণত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না।
- প্রতিদিন নিয়মিত খেলে কার্যকারিতা ভালো।
- ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে বন্ধ করার পর উর্বরতা সাধারণত দ্রুত ফিরে আসে।
মিনি পিলের সীমাবদ্ধতা
- প্রতিদিন একই সময়ে খেতে হয়।
- একটি ডোজ মিস করলে কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
- প্রথম কয়েক মাস অনিয়মিত রক্তপাত হতে পারে।
জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়ার নিয়ম
অনেকেই শুধু জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়ার নিয়ম জানতে চান। কিন্তু মনে রাখতে হবে, সব ধরনের পিলের নিয়ম এক নয়।
সাধারণভাবেঃ
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত দিন থেকে পিল শুরু করতে হবে।
- প্রতিদিন একই সময়ে একটি করে পিল খাওয়া উচিত।
- কোনো দিন পিল খেতে ভুলে গেলে প্যাকেটের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
- নিজের ইচ্ছামতো পিল পরিবর্তন বা বন্ধ করা উচিত নয়।
বিশেষ করে প্রসবের পর কোন সময় থেকে পিল শুরু করা নিরাপদ হবে, তা মা বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন কি না এবং তার স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল কোনটা ভালো?
এটি এমন একটি প্রশ্ন যার একক উত্তর নেই। কারও জন্য মিনি পিল উপযুক্ত হতে পারে, আবার কারও জন্য অন্য ধরনের পিল বা অন্য কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বেশি কার্যকর হতে পারে।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসক সাধারণত নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করেনঃ
- মায়ের বয়স
- বুকের দুধ খাওয়ানো হচ্ছে কি না
- রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি
- উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস আছে কি না
- ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা
তাই অন্যের পরামর্শে বা ফার্মেসি থেকে নিজের ইচ্ছামতো জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়া উচিত নয়।
কপার টি বা আইইউডি (IUD)
কপার টি (Copper-T) বা ইন্ট্রাউটেরাইন ডিভাইস (IUD) হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর প্রসব পরবর্তী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। এটি একটি ছোট “T” আকৃতির ডিভাইস, যা প্রশিক্ষিত চিকিৎসক জরায়ুর ভেতরে স্থাপন করেন। যেসব মা কয়েক বছর সন্তান নিতে চান না, কিন্তু ভবিষ্যতে আবার সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তাদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
প্রসবের পর কখন আইইউডি লাগানো যাবে, তা নির্ভর করে মায়ের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর। অনেক ক্ষেত্রে প্রসবের পরপরই বা নির্দিষ্ট সময় পর এটি স্থাপন করা যায়।
কপার টি-এর সুবিধা
- দীর্ঘমেয়াদি জন্মনিয়ন্ত্রণ (সাধারণত ৫–১০ বছর পর্যন্ত কার্যকর হতে পারে, ব্যবহৃত ডিভাইসের ধরন অনুযায়ী)।
- প্রতিদিন কোনো ওষুধ খেতে হয় না।
- বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের জন্য সাধারণত নিরাপদ।
- খুলে ফেলার পর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দ্রুত স্বাভাবিক উর্বরতা ফিরে আসে।
- ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন কোনো ঝামেলা থাকে না।
কপার টি-এর সম্ভাব্য অসুবিধা
- শুরুতে মাসিক কিছুটা বেশি হতে পারে।
- কারও কারও তলপেটে অল্প ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।
- খুব বিরল ক্ষেত্রে আইইউডি স্থানচ্যুত হতে পারে।
- এটি অবশ্যই প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের মাধ্যমে লাগাতে ও খুলতে হবে।
যদি কপার টি ব্যবহারের পর অতিরিক্ত রক্তপাত, তীব্র ব্যথা, জ্বর বা অস্বাভাবিক স্রাব দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
ইনজেকশন

জন্মনিয়ন্ত্রণ ইনজেকশন এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে নির্দিষ্ট সময় পরপর একটি ইনজেকশন নেওয়ার মাধ্যমে গর্ভধারণ প্রতিরোধ করা হয়। যেসব মা প্রতিদিন পিল খেতে ভুলে যান, তাদের জন্য এটি একটি সুবিধাজনক বিকল্প হতে পারে।
ইনজেকশনের সুবিধা
- প্রতিদিন ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
- দীর্ঘ সময় কার্যকর থাকে।
- ব্যবহারের নিয়ম তুলনামূলক সহজ।
- অনেক বুকের দুধ খাওয়ানো মায়ের জন্যও উপযুক্ত হতে পারে (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী)।
সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- মাসিক অনিয়মিত হতে পারে।
- কারও কারও ওজন কিছুটা বাড়তে পারে।
- ইনজেকশন বন্ধ করার পর স্বাভাবিক উর্বরতা ফিরে আসতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
ইনজেকশন নেওয়ার আগে চিকিৎসক আপনার স্বাস্থ্যগত অবস্থা মূল্যায়ন করবেন এবং এটি আপনার জন্য উপযুক্ত কি না তা জানাবেন।
স্থায়ী পদ্ধতি
যেসব দম্পতি নিশ্চিত যে তারা ভবিষ্যতে আর সন্তান নিতে চান না, তারা স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বিবেচনা করতে পারে। স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ সাধারণত দুইভাবে করা হয়ঃ
নারীর জন্যঃ ফ্যালোপিয়ান টিউব বন্ধ করার অপারেশন (Tubal Ligation)।
পুরুষের জন্যঃ ভ্যাসেকটমি (Vasectomy)।
দুই পদ্ধতিই দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর। তবে এটি স্থায়ী সিদ্ধান্ত হওয়ায় অপারেশনের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা জরুরি।
জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কোনটা ভালো?
আসলে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কোনটা ভালো, তার উত্তর নির্ভর করে আপনার ব্যক্তিগত প্রয়োজনের ওপর।
যেমনঃ
- অল্প সময়ের জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ চাইলে কনডম বা পিল ভালো বিকল্প হতে পারে।
- কয়েক বছরের জন্য নিশ্চিন্ত থাকতে চাইলে আইইউডি (কপার টি) ভালো হতে পারে।
- নিয়মিত পিল খেতে সমস্যা হলে ইনজেকশন সুবিধাজনক হতে পারে।
- ভবিষ্যতে আর সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা না থাকলে স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বিবেচনা করা যেতে পারে।
তাই একজনের জন্য যে পদ্ধতি সবচেয়ে ভালো, অন্যজনের জন্য সেটি নাও হতে পারে।
কোন মায়ের জন্য কোন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি উপযুক্ত?
সব মায়ের জন্য একই জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি উপযুক্ত নয়। নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করে চিকিৎসক সঠিক পদ্ধতি নির্বাচন করেন।
যদি বুকের দুধ খাওয়ান
অনেক ক্ষেত্রে নিচের পদ্ধতিগুলো বিবেচনা করা হয়ঃ
- কনডম
- মিনি পিল (প্রজেস্টিন-অনলি)
- কপার টি (IUD)
- নির্দিষ্ট ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ ইনজেকশন
তবে কোনটি আপনার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হবে, তা চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।
যদি বুকের দুধ না খাওয়ান
এক্ষেত্রে জন্মনিয়ন্ত্রণের বিকল্প আরও বেশি হতে পারে। তবে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য, বয়স, রক্তচাপ, ধূমপানের অভ্যাস এবং অন্যান্য রোগের ইতিহাস বিবেচনা করে চিকিৎসক উপযুক্ত পদ্ধতি নির্বাচন করেন।
প্রসবের কতদিন পর জন্মনিয়ন্ত্রণ শুরু করা উচিত?
এটি অনেক নতুন মায়ের সাধারণ প্রশ্ন।
এর উত্তর নির্ভর করেঃ
- স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে নাকি সিজারিয়ান।
- আপনি কি একচেটিয়াভাবে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন।
- কোন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে চান।
কিছু পদ্ধতি প্রসবের পরপরই শুরু করা যায়, আবার কিছু পদ্ধতি কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করে শুরু করা হয়। তাই নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বেছে নেওয়ার আগে যেসব বিষয় বিবেচনা করবেন
সঠিক প্রসব পরবর্তী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নির্বাচন করার আগে নিচের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণঃ
- আপনার বয়স কত?
- ভবিষ্যতে আবার সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি?
- শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন কি?
- নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস আছে কি?
- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ আছে কি?
- ধূমপানের অভ্যাস আছে কি?
- দীর্ঘমেয়াদি নাকি স্বল্পমেয়াদি জন্মনিয়ন্ত্রণ চান?
এসব প্রশ্নের উত্তর জানলে চিকিৎসক আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত পদ্ধতি নির্বাচন করতে পারবেন।
প্রসব পরবর্তী জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা
অনেক ভুল ধারণার কারণে নতুন মায়েরা সঠিক সময়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ শুরু করেন না।
ভুল ধারণা ১: বুকের দুধ খাওয়ালে গর্ভধারণ হয় না
এটি সবসময় সত্য নয়। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে বুকের দুধ খাওয়ানো কিছু সময়ের জন্য গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমাতে পারে। তাই শুধুমাত্র বুকের দুধের ওপর নির্ভর করা নিরাপদ নয়।
ভুল ধারণা ২: প্রসবের পর মাসিক না আসা পর্যন্ত জন্মনিয়ন্ত্রণের দরকার নেই
এটিও ভুল। অনেক নারীর ক্ষেত্রে প্রথম মাসিক হওয়ার আগেই ডিম্বস্ফোটন হতে পারে।
ভুল ধারণা ৩: সব জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল বুকের দুধের ক্ষতি করে
সব পিল এক ধরনের নয়। কিছু প্রজেস্টিন-অনলি (মিনি পিল) বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা যেতে পারে।
ভুল ধারণা ৪: কপার টি ভবিষ্যতে সন্তান হওয়ার ক্ষমতা নষ্ট করে
এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা। সাধারণভাবে আইইউডি খুলে ফেলার পর অধিকাংশ নারীর স্বাভাবিক উর্বরতা ফিরে আসে।
ভুল ধারণা ৫: জন্মনিয়ন্ত্রণ শুধু নারীর দায়িত্ব
এটি সঠিক নয়। পরিবার পরিকল্পনা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ স্বামী-স্ত্রী উভয়ের যৌথ সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।
প্রসব পরবর্তী জন্মনিয়ন্ত্রণের সময় যেসব বিষয় মনে রাখা জরুরি
সন্তান জন্মের পর জন্মনিয়ন্ত্রণ শুরু করার আগে কিছু বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখা উচিত। অনেক সময় অন্যের পরামর্শ বা সামাজিক ধারণার কারণে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে সমস্যার কারণ হতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নির্বাচন করবেন না
প্রত্যেক নারীর শারীরিক অবস্থা আলাদা। তাই যে পদ্ধতি একজনের জন্য উপযুক্ত, সেটি অন্যজনের জন্য নাও হতে পারে।
নিয়মিত ফলো-আপ করুন
কপার টি, ইনজেকশন বা জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল ব্যবহার করলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ফলো-আপ করা ভালো।
কোনো সমস্যা হলে দেরি করবেন না
অতিরিক্ত রক্তপাত, তীব্র ব্যথা, জ্বর বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
প্রসবের পর সঠিক জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কোনটা ভালো, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল কোনটা ভালো, অথবা জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়ার নিয়ম, এসব বিষয় ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে একজন অভিজ্ঞ স্ত্রীরোগ ও প্রজননস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
আপনি চাইলে হারভেস্ট ইনফার্টিলিটি কেয়ার-এ প্রজননস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন।
যোগাযোগ
মোবাইল:
- ০১৮১৭-১৪৬৬৪০
- ০১৭০৬-৩২০০৩৯
প্রধান কার্যালয়
মান্নান হাইটস, সেকশন–১২, ব্লক–বি, রোড–৬, হাউস–১০০, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা–১২২১
মিরপুর–১০ চেম্বার
চতুর্থ তলা, বাসা–০১, রোড–০৭, ব্লক–এ, সেকশন–১০, মিরপুর–১০, ঢাকা–১২১৬
সিলেট চেম্বার
থাইরোকেয়ার, লেভেল–৩, আল মাদানী টাওয়ার, আজাদী ৬১–৬২, নয়া সড়ক, মিরবক্স টুলা, সিলেট (সিলেট উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালের বিপরীতে)
দিনাজপুর চেম্বার
ইউনিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিকেল মোড় (হাসপাতাল ২ নম্বর গেটের সামনে), দিনাজপুর সদর–৫২০০