পিরিয়ড বা মাসিক নারীদের জীবনের একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। সাধারণত প্রতি ২১ থেকে ৩৫ দিন পর মাসিক হয় এবং রক্তপাত ৩ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে যদি মাসিকের সময় রক্তপাত স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হয়, বড় বড় রক্তের জমাট (Blood Clot) বের হয় অথবা ৭ দিনের বেশি রক্তপাত চলতে থাকে, তাহলে সেটিকে অস্বাভাবিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিক পিরিয়ডের পার্থক্য
প্রথমেই জানা জরুরি, সব ধরনের বেশি রক্তপাতই রোগের লক্ষণ নয়। কারও কারও মাসিক স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বেশি হতে পারে।
সাধারণত স্বাভাবিক পিরিয়ড
- ২১ থেকে ৩৫ দিন পরপর হয়।
- ৩ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হয়।
- রক্তপাত ধীরে ধীরে কমে যায়।
- দৈনন্দিন কাজকর্মে বড় ধরনের সমস্যা হয় না।
অস্বাভাবিক পিরিয়ড
নিচের যেকোনো লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—
- ৭ দিনের বেশি রক্তপাত।
- প্রতি ১–২ ঘণ্টা পরপর প্যাড বা ন্যাপকিন পরিবর্তন করতে হয়।
- বড় বড় রক্তের জমাট বের হয়।
- অতিরিক্ত দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা।
- মাসে একাধিকবার পিরিয়ড হওয়া।
- পিরিয়ড বেশি দিন থাকার কারণ বারবার দেখা দেওয়া।
এ ধরনের সমস্যা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ কেন হয়?
পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ কেন হয়, এর একটি নির্দিষ্ট কারণ নেই। বিভিন্ন শারীরিক, হরমোনজনিত এবং জরায়ুর সমস্যার কারণে এটি হতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলো হলো:
হরমোন ও শারীরিক পরিবর্তন
নারীদের মাসিক নিয়ন্ত্রণে প্রধান ভূমিকা রাখে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন। এই হরমোনগুলোর ভারসাম্য নষ্ট হলে জরায়ুর ভেতরের আবরণ (Endometrium) স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পুরু হয়ে যেতে পারে। ফলে মাসিকের সময় বেশি রক্তপাত হতে পারে।
হরমোনের অসমতা
হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে অনেক সময় নিয়মিত ডিম্বস্ফোটন (Ovulation) হয় না।
এর ফলে:
- মাসিক অনিয়মিত হতে পারে।
- দীর্ঘদিন পর পিরিয়ড হতে পারে।
- অতিরিক্ত রক্তপাত হতে পারে।
- অনেক সময় পিরিয়ড বেশি দিন থাকার কারণ হিসেবে এটি দায়ী থাকে।
হরমোনের সমস্যা কিশোরী, প্রজননক্ষম নারী এবং মেনোপজের কাছাকাছি বয়সের নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (পিসিওএস)
PCOS নারীদের একটি সাধারণ হরমোনজনিত সমস্যা।
এতে অনেক সময়:
- মাসিক অনিয়মিত হয়।
- কয়েক মাস মাসিক বন্ধ থাকতে পারে।
- হঠাৎ করে অতিরিক্ত রক্তপাত হতে পারে।
- ওজন বেড়ে যেতে পারে।
- মুখে ব্রণ দেখা দিতে পারে।
- শরীরে অতিরিক্ত লোম গজাতে পারে।
পিসিওএস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
থাইরয়েড সমস্যা
থাইরয়েড হরমোন শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
যদি থাইরয়েড কম বা বেশি কাজ করে, তাহলে:
- মাসিকের সময় পরিবর্তন হতে পারে।
- অতিরিক্ত রক্তপাত হতে পারে।
- দীর্ঘদিন পিরিয়ড চলতে পারে।
- ক্লান্তি ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
অনেক সময় শুধুমাত্র থাইরয়েডের চিকিৎসা করলেই মাসিক স্বাভাবিক হয়ে আসে।
বয়ঃসন্ধি বা মেনোপজ
বয়ঃসন্ধির প্রথম কয়েক বছর এবং মেনোপজের আগের সময়ে হরমোনের ওঠানামা স্বাভাবিক।
এই সময়ে:
- মাসিক অনিয়মিত হতে পারে।
- কখনও কম আবার কখনও বেশি রক্তপাত হতে পারে।
- কিছু ক্ষেত্রে পিরিয়ড ১০ দিনের বেশি হলে করণীয় সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।
যদি অতিরিক্ত রক্তপাত দীর্ঘদিন চলতে থাকে, তাহলে অবশ্যই পরীক্ষা করানো উচিত।
জরায়ুর রোগ বা সমস্যা
অনেক সময় পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ কেন হয়, এর উত্তর লুকিয়ে থাকে জরায়ুর বিভিন্ন সমস্যায়। জরায়ুর কিছু রোগের কারণে মাসিক দীর্ঘদিন স্থায়ী হতে পারে এবং স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি রক্তপাত হতে পারে।
ফাইব্রয়েড (Fibroid)
ফাইব্রয়েড হলো জরায়ুর পেশিতে তৈরি হওয়া অ-ক্যান্সারজনিত (Benign) টিউমার। এটি প্রজননক্ষম বয়সী নারীদের মধ্যে খুবই সাধারণ।
সব ফাইব্রয়েডে লক্ষণ দেখা যায় না। তবে আকার বা অবস্থানের ওপর নির্ভর করে কিছু সমস্যা হতে পারে।
ফাইব্রয়েডের লক্ষণ
- পিরিয়ডে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ
- পিরিয়ড বেশি দিন থাকার কারণ হতে পারে
- তলপেটে ভারী অনুভূতি
- ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ
- কোমর বা তলপেটে ব্যথা
- বড় রক্তের জমাট বের হওয়া
চিকিৎসা নির্ভর করে ফাইব্রয়েডের আকার, অবস্থান, লক্ষণ এবং ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনার ওপর।
পলিপ (Polyp)
পলিপ হলো জরায়ুর ভেতরের আবরণে (Endometrium) ছোট মাংসপিণ্ডের মতো বৃদ্ধি।
এটি অনেক সময় কোনো লক্ষণ সৃষ্টি না করলেও কারও ক্ষেত্রে—
- অনিয়মিত রক্তপাত
- পিরিয়ডে অতিরিক্ত রক্তপাত
- সহবাসের পর রক্তপাত
- দুই মাসিকের মাঝখানে রক্তপাত
হতে পারে।
পলিপ শনাক্ত করতে আল্ট্রাসনোগ্রাম বা প্রয়োজনে অন্যান্য পরীক্ষা করা হতে পারে।
অ্যাডেনোমায়োসিস (Adenomyosis)
অ্যাডেনোমায়োসিস এমন একটি অবস্থা যেখানে জরায়ুর ভেতরের আবরণ জরায়ুর পেশির মধ্যে প্রবেশ করে।
এর ফলে জরায়ু কিছুটা বড় হয়ে যেতে পারে এবং মাসিকের সময় তীব্র ব্যথা ও অতিরিক্ত রক্তপাত হতে পারে।
সাধারণ লক্ষণ
- দীর্ঘদিন পিরিয়ড থাকা
- অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ
- তীব্র মাসিকের ব্যথা
- তলপেটে চাপ অনুভব করা
৩০–৫০ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে এটি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

অন্যান্য কারণ
জরায়ুর রোগ ছাড়াও আরও কিছু কারণে পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে।
জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি
কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করার পর প্রথম কয়েক মাস মাসিকের ধরণ পরিবর্তিত হতে পারে।
বিশেষ করে:
- কপার আইইউডি (Copper IUD)
- কিছু হরমোনজনিত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি
ব্যবহারের শুরুতে কারও কারও বেশি রক্তপাত হতে পারে।
তবে যদি দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত রক্তপাত চলতে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।
রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা
কিছু মানুষের জন্মগত বা অর্জিত রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা থাকে।
এক্ষেত্রে:
- পিরিয়ড অনেক বেশি হতে পারে।
- রক্তপাত দীর্ঘদিন চলতে পারে।
- ছোট আঘাতেও সহজে রক্তপাত হতে পারে।
- দাঁত ব্রাশ করার সময় বা নাক থেকেও রক্ত পড়তে পারে।
এ ধরনের সমস্যা থাকলে বিশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।
ওষুধ
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও অতিরিক্ত মাসিক হতে পারে।
যেমন:
- রক্ত পাতলা করার ওষুধ (Blood Thinners)
- কিছু হরমোনজাতীয় ওষুধ
- নির্দিষ্ট কিছু চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ
যদি কোনো নতুন ওষুধ শুরু করার পর অতিরিক্ত রক্তপাত দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বন্ধ করবেন না।
পিরিয়ডে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে করণীয়
অনেকেই জানতে চান পিরিয়ডে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে করণীয় কী।
প্রথমেই মনে রাখতে হবে, অতিরিক্ত রক্তপাতের কারণ নির্ণয় করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু রক্তপাত কমানোর চেষ্টা না করে কেন হচ্ছে তা জানা জরুরি।
আপনি যা করতে পারেন—
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
অতিরিক্ত রক্তপাতের সময় শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
রক্তপাতের কারণে শরীরে তরলের ঘাটতি হতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করুন।
আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খান
অতিরিক্ত রক্তপাত দীর্ঘদিন চললে রক্তস্বল্পতা হতে পারে।
খাদ্যতালিকায় রাখুন:
- পালং শাক
- কলিজা
- ডিম
- মাছ
- ডাল
- লাল মাংস (পরিমিত)
- আয়রনসমৃদ্ধ অন্যান্য খাবার
প্রয়োজনে চিকিৎসক আয়রন সাপ্লিমেন্ট দিতে পারেন।
রক্তপাতের পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করুন
খেয়াল রাখুন:
- কত ঘন ঘন প্যাড পরিবর্তন করতে হচ্ছে।
- বড় রক্তের জমাট বের হচ্ছে কি না।
- কতদিন ধরে রক্তপাত হচ্ছে।
এসব তথ্য চিকিৎসকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
নিজে থেকে ওষুধ খাবেন না
ইন্টারনেট বা অন্যের পরামর্শে কোনো ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।
কারণ, অতিরিক্ত রক্তপাতের চিকিৎসা নির্ভর করে এর কারণের ওপর।

পিরিয়ড ১০ দিনের বেশি হলে করণীয়
স্বাভাবিকভাবে মাসিক ৩–৭ দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। যদি পিরিয়ড ১০ দিনের বেশি চলতে থাকে, তাহলে এটিকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া উচিত নয়।
পিরিয়ড ১০ দিনের বেশি হলে করণীয়:
- যত দ্রুত সম্ভব স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
- অতিরিক্ত দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
- প্রয়োজনে রক্তের হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করা হতে পারে।
- আল্ট্রাসনোগ্রাম বা অন্যান্য পরীক্ষা লাগতে পারে।
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ বা অন্যান্য চিকিৎসা শুরু করুন।
অতিরিক্ত ব্লিডিং বন্ধ করার উপায়
অনেকেই জানতে চান অতিরিক্ত ব্লিডিং বন্ধ করার উপায় কী। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উত্তর হলো—কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া। অতিরিক্ত রক্তপাত বন্ধ করার জন্য কোনো একটি ঘরোয়া বা সবার জন্য একই সমাধান নেই।
চিকিৎসক কারণ অনুযায়ী:
- হরমোনজনিত ওষুধ
- রক্তপাত কমানোর ওষুধ
- আয়রন সাপ্লিমেন্ট
- জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি পরিবর্তন
- অথবা প্রয়োজনে অস্ত্রোপচার
পরামর্শ দিতে পারেন।
গুরুত্বপূর্ণ: অতিরিক্ত রক্তপাত হলে নিজে থেকে হরমোনের ওষুধ, ব্যথার ওষুধ বা অন্য কোনো ওষুধ শুরু করবেন না। ভুল চিকিৎসা সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
কখন জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে যাবেন?
নিচের যেকোনো লক্ষণ থাকলে অপেক্ষা না করে দ্রুত হাসপাতালে যান:
- প্রতি ঘণ্টায় এক বা একাধিক প্যাড সম্পূর্ণ ভিজে যাচ্ছে।
- মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার অনুভূতি হচ্ছে।
- শ্বাসকষ্ট হচ্ছে।
- খুব বড় বড় রক্তের জমাট বের হচ্ছে।
- তীব্র পেটব্যথার সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তপাত হচ্ছে।
- গর্ভাবস্থায় যেকোনো মাত্রার রক্তপাত হচ্ছে।
এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ কেন হয়, পিরিয়ডে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে করণীয়, পিরিয়ড ১০ দিনের বেশি হলে করণীয় অথবা অতিরিক্ত ব্লিডিং বন্ধ করার উপায় এসব বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একজন অভিজ্ঞ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
বারবার অতিরিক্ত মাসিক, দীর্ঘদিন রক্তপাত বা তীব্র ব্যথা হলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আপনি চাইলে হারভেস্ট ইনফার্টিলিটি কেয়ার-এ প্রজননস্বাস্থ্য ও স্ত্রী রোগ সংক্রান্ত পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন।
আজই যোগাযোগ করুন
মোবাইল
- ০১৮১৭-১৪৬৬৪০
- ০১৭০৬৩২০০৩৯
প্রধান কার্যালয়
মান্নান হাইটস, সেকশন-১২, ব্লক-বি, রোড-৬, হাউস-১০০, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা-১২২১
মিরপুর-১০ চেম্বার
চতুর্থ তলা, বাসা-০১, রোড-০৭, ব্লক-এ, সেকশন-১০, মিরপুর-১০, ঢাকা-১২১৬
সিলেট চেম্বার
থাইরোকেয়ার, লেভেল-৩, আল মাদানী টাওয়ার, আজাদি ৬১-৬২, নয়া সড়ক, মিরবক্স টুলা, সিলেট (সিলেট উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালের বিপরীতে)
দিনাজপুর চেম্বার
ইউনিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিকেল মোড় (হাসপাতাল ২ নম্বর গেটের সামনে), দিনাজপুর সদর-৫২০০