শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মা যা খাবেন না

মায়ের বুকের দুধ একটি নবজাতকের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ, পুষ্টিকর এবং প্রয়োজনীয় খাবার। শিশুর জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তবে অনেক মা জানতে চান, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মা যা খাবেন না সেগুলো কী কী? কারণ মায়ের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার কিছু বিষয় শিশুর স্বাস্থ্যের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

যদিও বেশিরভাগ স্বাস্থ্যকর খাবার স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য নিরাপদ, তবুও কিছু খাবার ও অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত। বিশেষ করে নবজাতকের মায়ের নিষিদ্ধ খাবার সম্পর্কে সচেতন থাকা শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যালকোহল ও ধূমপান

বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় অ্যালকোহল সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলা উচিত। অ্যালকোহল মায়ের রক্তের মাধ্যমে বুকের দুধে প্রবেশ করতে পারে এবং শিশুর শরীরে পৌঁছে যেতে পারে। এর ফলে শিশুর ঘুমের সমস্যা, বিকাশে বাধা, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি এবং খাওয়ার অনীহা দেখা দিতে পারে।

একইভাবে ধূমপানও অত্যন্ত ক্ষতিকর। সিগারেটের নিকোটিন বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে যেতে পারে। এর ফলে শিশুর শ্বাসকষ্ট, ঘন ঘন অসুস্থতা, কানের সংক্রমণ এবং হঠাৎ শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি (SIDS) পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। তাই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মায়ের ধূমপান, ই-সিগারেট, ভ্যাপিং এবং অ্যালকোহলজাতীয় সব ধরনের পানীয় থেকে দূরে থাকা উচিত। 

অতিরিক্ত ক্যাফেইন

Excess-caffeine

চা, কফি, এনার্জি ড্রিংকস এবং কিছু কোমল পানীয়তে ক্যাফেইন থাকে। অল্প পরিমাণ ক্যাফেইন সাধারণত নিরাপদ হলেও অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ শিশুর জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। নবজাতকের শরীর ক্যাফেইন দ্রুত ভাঙতে পারে না। ফলে বুকের দুধের মাধ্যমে ক্যাফেইন শিশুর শরীরে পৌঁছে গেলে সে অস্থির হয়ে যেতে পারে, ঘুম কম হতে পারে এবং অতিরিক্ত কান্না করতে পারে।

সাধারণত দিনে ১-২ কাপ চা বা কফি গ্রহণ নিরাপদ বলে ধরা হয়। তবে এর বেশি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা ভালো। বিশেষ করে নবজাতকের মায়েদের ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় সীমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

উচ্চ পারদযুক্ত মাছ

উচ্চ পারদযুক্ত মাছ

মাছ স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও কিছু সামুদ্রিক মাছের মধ্যে পারদের মাত্রা বেশি থাকতে পারে। অতিরিক্ত পারদ শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

যেসব মাছ সাধারণত উচ্চ পারদযুক্ত হিসেবে পরিচিত সেগুলোর মধ্যে রয়েছে,

  • হাঙ্গর মাছ
  • সোর্ডফিশ
  • কিং ম্যাকারেল
  • টাইলফিশ

স্তন্যদানকারী মায়েদের এসব মাছ খাওয়া সীমিত বা সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা উচিত। এর পরিবর্তে কম পারদযুক্ত মাছ যেমন রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, স্যামন বা সার্ডিন খাওয়া যেতে পারে।

এলার্জিক খাবার

এলার্জিক খাবার

সব শিশুর ক্ষেত্রে না হলেও কিছু শিশুর নির্দিষ্ট খাবারের প্রতি সংবেদনশীলতা থাকতে পারে। মা যদি কোনো এলার্জিক খাবার খান, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে তার প্রভাব বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর মধ্যে দেখা দিতে পারে।

সাধারণ এলার্জিক খাবারের মধ্যে রয়েছে,

  • গরুর দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার
  • ডিম
  • বাদাম
  • সয়াবিন
  • চিংড়ি ও সামুদ্রিক খাবার

যদি মা লক্ষ্য করেন যে কোনো নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার পর শিশুর ত্বকে র‍্যাশ, পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া বা অতিরিক্ত কান্না হচ্ছে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেই খাবার সাময়িকভাবে বন্ধ করা যেতে পারে।

তবে নিজের সিদ্ধান্তে কোনো গুরুত্বপূর্ণ খাবার দীর্ঘদিন বন্ধ করা উচিত নয়।

প্রক্রিয়াজাত ও ফাস্টফুড

প্রক্রিয়াজাত ও ফাস্টফুড

প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং ফাস্টফুডে সাধারণত অতিরিক্ত লবণ, চিনি, ট্রান্স ফ্যাট এবং কৃত্রিম উপাদান থাকে। এসব খাবার মায়ের স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে শিশুর পুষ্টির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

যেসব খাবার কম খাওয়া উচিত,

  • বার্গার
  • পিজ্জা
  • ফ্রেঞ্চ ফ্রাই
  • প্যাকেটজাত চিপস
  • সফট ড্রিংকস
  • ইনস্ট্যান্ট নুডলস
  • অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত মাংস

এর পরিবর্তে তাজা ফল, শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম এবং ঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ভালো।

কিছু শাকসবজি

শাকসবজি

কিছু শাকসবজি খাওয়ার পর অনেক শিশুর গ্যাস বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। যদিও এর প্রভাব সব শিশুর ক্ষেত্রে এক নয়, তবুও কিছু মা নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার পর শিশুর আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারেন।

যেসব শাকসবজি কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে,

  • বাঁধাকপি
  • ফুলকপি
  • ব্রকলি
  • শিম
  • মটরশুঁটি

এসব খাবার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়। তবে যদি কোনো নির্দিষ্ট শাকসবজি খাওয়ার পর শিশুর অস্বস্তি দেখা যায়, তাহলে কিছুদিন পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এছাড়া কাঁচা ও অপরিষ্কার শাকসবজি খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এতে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে।

ভেষজ ও ঔষধি চা

ভেষজ ও ঔষধি চা

অনেকেই স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভেষজ বা হারবাল চা পান করেন। কিন্তু সব ভেষজ চা স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য নিরাপদ নয়।

কিছু ভেষজ উপাদান বুকের দুধের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে বা শিশুর শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই অজানা উপাদানযুক্ত হারবাল চা, ওজন কমানোর চা বা ঔষধি পানীয় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করা উচিত নয়। যেকোনো হারবাল সাপ্লিমেন্ট বা ভেষজ পানীয় গ্রহণের আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মায়ের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে বিভ্রান্তি থাকা স্বাভাবিক। তবে মনে রাখতে হবে, সব মায়ের শরীর এবং সব শিশুর প্রতিক্রিয়া এক রকম নয়। তাই কোনো খাবার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে আজই যোগাযোগ করুন, হারভেস্ট ইনফার্টিলিটি কেয়ার-এ, যেখানে আপনি পরামর্শ নিতে পারবেন ডাঃ মুশতাক আহমেদ এর কাছ থেকে, যিনি ২৫ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন খ্যাতনামা বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ।

আজই যোগাযোগ করুনঃ

মোবাইল:

০১৮১৭-১৪৬৬৪০, ০১৭০৬-৩২০০৩৯

প্রধান কার্যালয়

মান্নান হাইটস, সেকশন-১২, ব্লক-বি, রোড-৬, হাউস-১০০, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা-১২২১

মিরপুর-১০ চেম্বার

চতুর্থ তলা, বাসা-০১, রোড-০৭, ব্লক-এ, সেকশন-১০, মিরপুর-১০, ঢাকা-১২১৬

সিলেট চেম্বার

থাইরোকেয়ার লেভেল-৩, আল মাদানী টাওয়ার, আজাদি ৬১-৬২, নয়া সড়ক, মিরবক্স টুলা, সিলেট, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালের বিপরীতে।

দিনাজপুর চেম্বার

ইউনিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিকেল মোড় (হাসপাতাল ২ নম্বর গেটের সামনে), দিনাজপুর সদর-৫২০০

Scroll to Top