পিরিয়ড ১০ দিনের বেশি হলে করণীয়

সাধারণত একজন নারীর পিরিয়ড বা মাসিক ৩ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হয়। তবে যদি মাসিক ১০ দিনের বেশি চলতে থাকে, তাহলে এটি স্বাভাবিক নয় এবং এর পেছনে বিভিন্ন শারীরিক বা হরমোনজনিত কারণ থাকতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত মাসিক রক্তপাতকে মেনোরেজিয়া (Menorrhagia) বলা হয়।

অনেক নারী মনে করেন দীর্ঘদিন পিরিয়ড হওয়া সাময়িক সমস্যা এবং এটি নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে এটি জরায়ুর সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, পলিপ, ফাইব্রয়েড, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা অন্যান্য স্বাস্থ্যগত জটিলতার লক্ষণ হতে পারে। তাই পিরিয়ড ১০ দিনের বেশি হলে করণীয় সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

যদি আপনার মাসিক ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব একজন গাইনোকোলজিস্ট বা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

দীর্ঘদিন মাসিক চলার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যেমন:

  • হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
  • জরায়ুর ফাইব্রয়েড
  • এন্ডোমেট্রিয়াল পলিপ
  • থাইরয়েড সমস্যা
  • পিসিওএস (PCOS)
  • জরায়ুর সংক্রমণ
  • গর্ভাবস্থাজনিত জটিলতা
  • কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

চিকিৎসক সাধারণত রোগীর ইতিহাস জানার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী আল্ট্রাসনোগ্রাম, রক্ত পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষা করার পর সমস্যার মূল কারণ নির্ণয় করেন।

অনেক সময় রোগীরা শুধু রক্তপাত বন্ধ করার চেষ্টা করেন, কিন্তু প্রকৃত কারণ নির্ণয় না করলে সমস্যা বারবার ফিরে আসতে পারে। তাই নিজে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

রক্তাল্পতা প্রতিরোধ করুন

রক্তাল্পতা প্রতিরোধ করুন

দীর্ঘ সময় ধরে মাসিক হলে শরীর থেকে প্রচুর রক্ত বের হয়ে যায়। এর ফলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে এবং রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দিতে পারে।

রক্তাল্পতার সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:

  • অতিরিক্ত দুর্বলতা
  • মাথা ঘোরা
  • ক্লান্তি
  • শ্বাসকষ্ট
  • হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া
  • মনোযোগ কমে যাওয়া

এই অবস্থায় শরীরের যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

রক্তাল্পতা প্রতিরোধের জন্য:

  • আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খান
  • লাল শাক, পালং শাক, কলিজা, ডাল ও খেজুর খাদ্যতালিকায় রাখুন
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন
  • ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করুন

যদি রক্তপাত অনেক বেশি হয়, তাহলে চিকিৎসক রক্তের হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন। প্রয়োজনে বিশেষ চিকিৎসারও প্রয়োজন হতে পারে।

ওষুধ

ওষুধ

অনেকেই জানতে চান, পিরিয়ড ১০ দিনের বেশি হলে কী ওষুধ খেতে হবে?

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দীর্ঘদিন মাসিক হওয়ার কারণ না জেনে কোনো ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।

কারণ ভেদে চিকিৎসক বিভিন্ন ধরনের ওষুধ দিতে পারেন, যেমন:

  • হরমোন নিয়ন্ত্রণের ওষুধ
  • জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি
  • রক্তপাত কমানোর ওষুধ
  • থাইরয়েড বা অন্যান্য রোগের চিকিৎসার ওষুধ
  • আয়রন সাপ্লিমেন্ট

নিজে থেকে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ভুল ওষুধ গ্রহণ করলে সমস্যার অবনতি হতে পারে অথবা অন্য স্বাস্থ্য জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই মাসিক ১০ দিনের বেশি চললে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।

জরুরি অবস্থা

কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন মাসিক হওয়া জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করতে পারে।

নিচের লক্ষণগুলোর কোনোটি থাকলে দ্রুত হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে:

  • প্রতি ঘণ্টায় প্যাড বা ন্যাপকিন পরিবর্তন করতে হচ্ছে
  • বড় বড় রক্ত জমাট বের হচ্ছে
  • তীব্র মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার অনুভূতি হচ্ছে
  • শ্বাসকষ্ট হচ্ছে
  • বুক ধড়ফড় করছে
  • তীব্র তলপেট ব্যথা হচ্ছে
  • শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ছে

এসব লক্ষণ শরীরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং গুরুতর জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসা নিতে দেরি করা উচিত নয়।

বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

যদি আপনার মাসিক ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, অনিয়মিত রক্তপাত হয়, অথবা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন, তাহলে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ স্ত্রীরোগ ও বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

হারভেস্ট ইনফার্টিলিটি কেয়ার-এ আপনি বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা বিষয়ে পরামর্শ নিতে পারবেন ডাঃ মুশতাক আহমেদ-এর কাছ থেকে। তিনি বাংলাদেশের প্রথম এবং ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন infertility specialist ও embryologist হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়াও রয়েছে আরো অভিজ্ঞ ডাক্তার যারা কিনা আপনার সমস্যা অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। 

আজই যোগাযোগ করুন

মোবাইল:
০১৮১৭-১৪৬৬৪০
০১৭০৬৩২০০৩৯

ঠিকানা

প্রধান কার্যালয়:
ব্লক-এ, বাসা-০৯, রোড নং-০৬, মিরপুর-১০, ঢাকা-১২১৬
(মেট্রোরেলের পিলার নং ২৩৩ এবং ইনডোর স্টেডিয়ামের বিপরীতে)

সিলেট চেম্বার

থাইরোকেয়ার লেভেল-৩, আল মাদানী টাওয়ার, আজাদি ৬১-৬২, নয়া সড়ক, মিরবক্স টুলা, সিলেট, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালের বিপরীতে।

দিনাজপুর চেম্বার

ইউনিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিকেল মোড় (হাসপাতাল ২ নম্বর গেটের সামনে), দিনাজপুর সদর-৫২০০

Scroll to Top